বাসস
  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৪৭

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাউফলের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ৮ চিকিৎসক নিয়োগ

এনামুল হক এনা

পটুয়াখালী, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : জেলার বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একসাথে ৮ জন নতুন চিকিৎসক যোগদান করেছেন। এতে বাউফল উপজেলার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন গতি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে দিয়ে এই হাসপাতালে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকটের অবসান হলো। 
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আজ সকালে মেডিক্যাল অফিসার পদে ৮ জন চিকিৎসক আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফ ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন।

যোগদানকারী চিকিৎসকরা হলেন, ডা. মো. মিয়াদ হাসান (মেডিক্যাল অফিসার, গাইনি অ্যান্ড অবস), ডা. ই. এম. নাঈম সাকির ( মেডিক্যাল অফিসার, অর্থোপেডিক্স অ্যান্ড ট্রমাটোলজি), ডা. মোস্তাফিজুর রহমান (মেডিক্যাল অফিসার, মেডিসিন), ডা. মো. শাহরিয়ার আল কাউম (মেডিক্যাল অফিসার, মেডিসিন), ডা. মো. ইরফান উদ্দিন (ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার), ডা. জান্নাতুন নেয়ামা ( মেডিক্যাল অফিসার, ডেন্টাল), ডা. আন্না আক্তার রত্না ( মেডিক্যাল অফিসার, সার্জারি) এবং ডা. মামুনুর রশিদ ( মেডিক্যাল অফিসার, পেডিয়াট্রিক্স)।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এর আগে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র ৬ জন চিকিৎসক কর্মরত ছিলেন। নতুন ৮ জন চিকিৎসক যোগ দেওয়ায় চিকিৎসকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গাইনি, সার্জারি, শিশু, অর্থোপেডিক্স, মেডিসিন ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং মানোন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকটের কারণে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে কর্তৃপক্ষকে বেগ পেতে হচ্ছিল। নতুন চিকিৎসকরা যোগদান করায় রোগীদের চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে এবং নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফ বাসসকে বলেন, একসাথে ৮ জন চিকিৎসক যোগদান করায় হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। এতদিন জনবল সংকটের কারণে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দিতে কিছুটা সমস্যা ছিল। এখন গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, অর্থোপেডিক্স ও জরুরি বিভাগে নিয়মিত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, নতুন চিকিৎসকদের মাধ্যমে সাধারণ রোগীরা দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও নতুন চিকিৎসকদের যোগদানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে বলে তারা মনে করেন।