বাসস
  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০৯

রাজশাহীতে কোচিং বাণিজ্য রোধে ১০ সদস্যের উপ-কমিটি গঠন

রাজশাহীতে কোচিং বাণিজ্য রোধে গঠিত উপ-কমিটির সভাপতি মো. জায়েদুর রহমান এবং সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মামুন। ছবি: কোলাজ

রাজশাহী, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য প্রতিরোধে প্রণীত ২০১২ সালের নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজশাহীতে ১০ সদস্যের একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার স্বাক্ষরিত এক আদেশে বেসরকারি কোচিং সেন্টার পরিচালনা-সংক্রান্ত কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পরিচালিত কোচিং ব্যবসা শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ প্রেক্ষাপটে কমিটি ২০১২ সালের নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, কোচিং সেন্টার পর্যবেক্ষণ এবং অনিয়ম প্রতিরোধে কাজ করবে।

পদাধিকারবলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমানকে সভাপতি এবং কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

এছাড়া পদাধিকারবলে এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রাজশাহী সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল, সরকারি ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (হেলেনাবাদ), শিরোইল কলোনী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং হাজী মুহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

উপ-কমিটির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, ‘রাজশাহী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত। এখানে শিক্ষার মান, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং ব্যবসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যালয়েই পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত শিক্ষা লাভ করুক এবং অতিরিক্ত কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল না হোক।’

তিনি আরও বলেন, এ কমিটি নিয়মিত মনিটরিং করবে, অভিযোগ গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই করবে এবং প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় রাজশাহীতে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উদ্যোগটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদান আরও শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে কম চাপের পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা