বাসস
  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৮

বাকৃবি’র সেরা দশ গবেষককে নিয়ে মতবিনিময়

বাকৃবি’র সেরা দশ গবেষককে নিয়ে মতবিনিময় । ছবি: বাসস

বাকৃবি’র সেরা দশ গবেষককে নিয়ে মতবিনিময়

ময়মনসিংহ, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার লক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ১০ গবেষককে নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

গতকাল বুধবার আইকিউএসি’র সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্কোপাস ইনডেক্স ২০২৫ সালের র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বসেরার তালিকায় বাকৃবির গবেষকদের নাম উঠে আসায় তাঁদের ফুলের শুভেচ্ছা জানানো  হয়।

আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক মো. শামছুল আলম। 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মুরাদ আহমেদ ফারুখ ও অধ্যাপক ড. মো. শহীদ রেজা।

স্কোপাস তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে বাকৃবির সেরা গবেষক হলেন-অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজাহান, কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন, কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসমত আরা বেগম, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তানভীর রহমান, অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহা, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম।

সভায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে যেতে হলে গবেষণার মান ও দৃশ্যমানতা বাড়াতে হবে। উচ্চ-ইমপ্যাক্ট জার্নালে প্রকাশনা, সাইটেশন বৃদ্ধি, আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ প্রকল্প গ্রহণে জোর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে গবেষণার ফলাফলকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার জন্য সুসংগঠিত ডেটা ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

সভায় অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন বলেন, যখন একজন গবেষক তার পরিশ্রমের স্বীকৃতি আর্থিক বা প্রশাসনিকভাবে পান, তখন তিনি আরও বড় গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত হতে উৎসাহিত হন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রণোদনা গবেষণার গতি বহুগুণ বাড়াতে পারে।

অধ্যাপক ড. শাহজাহান বলেন, বর্তমানে বাকৃবিতে প্রায় ৬শ’ জন শিক্ষক রয়েছেন। যদি প্রতিটি শিক্ষক বছরে গড়ে অন্তত একটি মানসম্মত গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করেন, তবে বছরে সহজেই ৬শ’টি পাবলিকেশন সম্ভব। এছাড়া বাউরেস প্রতিবছর প্রায় ৪৭২ থেকে ৪৮০টি গবেষণা প্রকল্প নিয়ে কনফারেন্স আয়োজন করে। এসব প্রকল্প থেকে যদি অন্তত একটি করে পেপার প্রকাশ হতো, তাহলে আরও প্রায় ৪৮০টি আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা যুক্ত হতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুলিতে। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিতভাবে সক্রিয় গবেষকের সংখ্যা ৫০ জনের বেশি নয়, ফলে গবেষণার সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, গবেষণাকে প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকারে নিয়ে আসতে হলে পরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা, স্বচ্ছ মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং কার্যকর মনিটরিং প্রয়োজন। সেরা গবেষকদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা র‌্যাংকিংয়ে আরও অগ্রগতি অর্জনে কাজ করবো। আইকিউএসি ভবিষ্যতে গবেষণা প্রকাশনা বৃদ্ধি, সাইটেশন উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নে উদ্যোগ নেবে।