বাসস
  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:১৭

মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন খাতের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আজ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাসমূহের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ সময়কালের সামগ্রিক কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিকায়নমূলক সিদ্ধান্তের ফলে দেশের নৌখাত আজ একটি শক্তিশালী, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাতে রূপান্তরিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ২,৩৭৮.৭৭ কোটি টাকা, ব্যয় ৮৩৭.৯৯ কোটি টাকা এবং উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১,৫৪০.০৮ কোটি টাকা। কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এবং ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বকালের সর্বোচ্চ কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডে ওঝচঝ অডিটে ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন বন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা জানান, মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট নিরসনের পথ সুগম হয়েছে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা (পিআরএফ) প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব বন্দর ব্যবস্থাপনার একটি মাইলফলক।

পায়রা বন্দরে দেশি ও বিদেশি জাহাজ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। পিপিএফটি প্রকল্পের আওতায় সড়ক, ব্রিজ ও মোবাইল হারবার ক্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্যোগে কুতুবদিয়া, হাতিয়া, মহেশখালী, ভাসানচর ও অন্যান্য দ্বীপাঞ্চলে সি-ট্রাক ও ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় দুর্গম এলাকার জনগণের যাতায়াত নিরাপদ, সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হয়েছে। নতুন লঞ্চঘাট, পন্টুন ও জেটি স্থাপনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং যাত্রী সাধারণের সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ৩০ এর অধিক লঞ্চঘাট এবং ৫০ এর অধিক পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে বলে উপদেষ্টা জানান।

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে এবং নতুন বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে দেশের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আদায়ও সরকারের সাফল্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মাধ্যমে জিএমডিএসএস, কোস্টাল রেডিও স্টেশন ও লাইটহাউজ স্থাপনের ফলে উপকূলীয় এলাকায় নৌনিরাপত্তা জোরদার হয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নদ-নদীর অবৈধ দখল ও দূষণ রোধে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি মেরিন একাডেমি ও ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট সমূহে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নাবিক ও মেরিটাইম জনবল তৈরিতে অগ্রগতি হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ের সমাপনী বক্তব্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, নৌখাত কেবল পরিবহন ব্যবস্থাই নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। আমাদের লক্ষ্য হলো-বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মেরিটাইম হাবে পরিণত করা। এই অর্জনগুলো সেই লক্ষ্যে আমাদের দৃঢ় অগ্রযাত্রার প্রতিফলন।

সংবাদ সম্মেলন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।