বাসস
  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৫

নির্বাচনে নীতি বিবর্জিত হয়ে অন্যায় কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: বাসস

রাজশাহী, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নিবার্চনে যারা নীতি বিবর্জিত ও লোভের বশবর্তী হয়ে অন্যায় কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে সবাইকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যক্তি, দল, কিংবা রাজনৈতিক কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নে জড়িত হওয়া যাবে না। কেউ দায়িত্ব এড়িয়ে চললে অথবা অবহেলা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থ বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে। এমনকি কোনো প্রকার আহারও গ্রহণ করা যাবে না।

উপদেষ্টা আজ বিকেলে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে আইন, বিধি, জননিরাপত্তা, জনসেবা ও জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে। সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বই হবে এই নির্বাচনের মূল শক্তি। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র‌্যাব (এসআইএফ)-এর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম। 

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন- রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান।

রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, ভোট দেয়ার বুথসহ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে স্বচ্ছ ও নির্বাচনের পরিবেশ উপযোগী করে প্রস্তুত রাখতে হবে। ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার মূল রাস্তা যাতে মসৃণ ও যাতায়াত উপযোগী থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ এগুলো যাতে যথাসময়ে ভোটকেন্দ্র পৌঁছানো যায়-সেটি নিশ্চিত করতে হবে। মোদ্দাকথা, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহযোগিতা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক, জেলা, উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিজিবি’র রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল উপ-পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, খুলনা বিভাগের মতো রাজশাহী বিভাগেরও নির্বাচনী প্রস্তুতি ভালো। নির্বাচনী সহিংসতা বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দু’একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচনী সহিংসতা অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক কম। নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর ও ভালো রয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচন সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১ লাখ, বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী ৫ হাজার, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৭৩০ (স্থলভাগ-১ হাজার ২৫০), বাংলাদেশ পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, র‌্যাব ৭ হাজার ৭০০, এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য। এবার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।