বাসস
  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩১

নরসিংদীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ক্র্যাবের  

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি চত্বরে ক্র্যাব মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে। ছবি: বাসস

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব)।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে ক্র্যাব আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় এ সময় বেঁধে দেওয়া হয়। 

ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল এই আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় আসামিদের ছবি প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় নরসিংদী জেলার এসপি ও মাধবদী থানার ওসি অপসারণে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। 

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইজিপির কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলেও জানান ক্র্যাব সভাপতি।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম-বিএসআরএফ, ডিফেন্স জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন-ডিজাব, রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশন-র‌্যাক, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম, ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, ঢাকা জার্নালিস্ট কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন।

গত ২৬ জানুয়ারি নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে ক্র্যাবের পিকনিকের বাসে চাঁদার দাবিতে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন ক্র্যাব সদস্য আহত হন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নরসিংদী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে নিজ নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, নরসিংদীতে এই সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাংবাদিক সমাজ। 

তিনি বলেন, ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা আইজিপি কেউই ক্র্যাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আহতদের দেখতেও যাননি, যা খুবই দুঃখজনক। 

ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ‘ক্রাইম রিপোর্টাররা যখন আঘাতপ্রাপ্ত, তখন বোঝা যায় দেশের কী অবস্থা! এ ঘটনায় কারা জড়িত তা স্পষ্ট।’ তিনি অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, নরসিংদীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক। তিনি অবলিম্বে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। 

ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, ঘটনার পর পুলিশকে অবগত করা হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটি খুবই দুঃখজনক।

ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ বলেন, ‘ভিডিও ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে শনাক্ত হওয়া আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার না করা প্রশাসনিক গাফিলতি।’ তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করার আহ্বান জানান।

ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি মধুসূদন মণ্ডল বলেন, এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এই পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। 

ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান খান বলেন, ট্রিপল নাইনে কল করলে ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধ্য। কিন্তু এত বড় ঘটনা ঘটল, আমাদের এত মেম্বার আহত হলো, তার আধা ঘণ্টা পরে পুলিশ  সেখানে এসেছে। পুলিশ আরও আগে আসলে আমরা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পারতাম।

প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য দেন ক্র্যাবের সাবেক সহ-সভাপতি শাহীন আব্দুল বারী, ঢাকা জার্নালিস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ইকরামুল কবীর টিপু, জাতীয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মোমিন হোসেন, ক্র্যাবের সহ-সভাপতি জিয়া খান, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম-বিএসআরএফ সভাপতি মাসুদুল হক, বিএসআরএফ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ বাদল, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদ, ডিফেন্স জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের (ডিজাব) সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশনের (র‌্যাক) সভাপতি সাফিউদ্দিন আহমেদ, র‌্যাক সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হক, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরামের (পিআরএফ) সভাপতি খোন্দকার কাওছার হোসেন, পিআরএফ সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী, ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু, ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি আজিজুল হাকিম প্রমুখ।