বাসস
  ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৩

নীলফামারীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছে ১১ পরিবারের ২৫টি বসত ঘর

নীলফামারী জেলায় অগ্নিকাণ্ডে ১১ পরিবারের ২৫টি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে।  ছবি: বাসস

নীলফামারী, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : জেলায় অগ্নিকাণ্ডে ১১ পরিবারের ২৫টি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। 

গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত নয়টার দিকে জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের পাটোয়ারী পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

আজ দুপুরে সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত রিকশা চালক দিলীপ রায়ের স্ত্রী মিনু বালা রায়  পোড়া ভিটায় বসে বিলাপ করছেন। অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। তার মতো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অন্যরাও। নতুন করে ঠাঁই গোছানোর চেষ্টায় তারা ওই পোড়া ভিটার ছাই সরাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত রাত নয়টার দিকে গ্রামের দুলাল রায়ের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দিলীপ, দিপু, সুবাস, বিপুল, সুকুমার, চন্দন, প্রতিমা, হিমেল, প্রদীপ ও বেলাই রায়সহ ১১ পরিবারের ২৫টি ঘর, আসবাব পত্র এবং ঘরে সংরক্ষিত ধান-চাল পুড়ে যায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রতিমা রায়ের দুইটি গরু মারা যায়। খবর পেয়ে নীলফামারী দমকল বাহিনীর দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,‘ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সন্ধ্যায় এসব পরিবারের বেশিরভাগ পুরুষ মানুষ বাজারে অবস্থান করায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।’

নীলফামারী দমকল বাহিনীর কর্মকর্তা মকুল হোসেন বলেন,‘ দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক আট লাখ টাকা।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লা আজ শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।  

এসময় তিনি প্রত্যেক পরিবারের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে দুইটি করে কম্বল, ১০ কেজি করে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণসহ রান্নার বিভিন্ন মশলার একটি করে প্যাকেট বিতরণ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে।