শিরোনাম

মাদারীপুর, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস):বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাগুলোর একটি ঘোড়দৌড় আজ বিলুপ্তির পথে। সময়ের বিবর্তনে গ্রামবাংলার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই জনপ্রিয় খেলাটি অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। তবে ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার প্রয়াসে দেশের কিছু এলাকায় এখনও নিয়মিতভাবে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহাসিক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।
গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চৌরাশী গ্রামের মাঠে স্থানীয় গ্রামবাসীর আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে মাঠে ভিড় করেন কয়েক হাজার দর্শক। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মাঠজুড়ে ছোট-বড়, লাল, কালো ও সাদা রঙের নানা জাতের ঘোড়া দৌড়ে অংশ নেয়। মাদারীপুর ছাড়াও ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ঘোড়াগুলো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
ঘোড়সওয়ার সাব্বির হোসেন জানান, তিনি রাজৈর উপজেলার পাইকপাড়া এলাকা থেকে ‘দুই ভাইয়ের মায়া’ নামের ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পুরস্কারের জন্য নয়, শখের বসেই ঘোড়া দৌড়ে অংশ নিই।’
অপর ঘোড়সওয়ার নাবিল হোসেন বলেন, ‘রনজিৎ বাচ্চা নামের ঘোড়াটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। এই দৌড় আমার কাছে আনন্দের।’
দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা কয়েক দফায় অনুষ্ঠিত হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিটি ঘোড়াই আলাদা ও ব্যতিক্রমী নামে পরিচিত।
কংসরাজ, দুই ভাইয়ের মায়া, টেকর পাখি, দাদা-নাতি, হংসরাজ, টিপু সুলতান, মায়ের রাজা, মুকুট রাজা, বাংলা ভাই, ট্রিগার, রনজিৎ বাচ্চা, আর্মি টাইগার, সোনার ময়না, নিউ সোনার তরীসহ মোট ৪৬টি ঘোড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
ঘোড়দৌড় দেখতে আসা দর্শক নবনীতা রায় বলেন, ‘অনেক দিন পর ঘোড়দৌড় দেখলাম। এখন আর আগের মতো এই আয়োজন দেখা যায় না। এত মানুষ একসঙ্গে এসে ঐতিহ্যবাহী এই খেলা উপভোগ করছে। এটা দেখে খুব ভালো লাগছে।’
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ঘোড়াগুলোর মালিক ও ঘোড়সওয়ারদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
‘ছোট ঘোড়া’ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘শুভরাজ’, দ্বিতীয় ‘আমার স্বপ্ন’ এবং তৃতীয় হয় ‘আর্মি টাইগার’।
‘বড় ঘোড়া’ ক্যাটাগরিতে প্রথম হয় ‘জয় বাংলা’, দ্বিতীয় ‘সোনার ময়না’ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ‘নিউ সোনার তরী’। এছাড়া ‘রনজিৎ বাচ্চা’ বিশেষ পুরস্কার অর্জন করে।
বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় দর্শক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।