শিরোনাম

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদে শিক্ষকতা করার পথ চিরতরে বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলার ৩৬ হাজারের বেশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সনদ পরীক্ষা করা হবে।
পাইলটিং হিসেবে দেশের তিনটি জেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো-গাজীপুর, নরসিংদী ও ভোলা। এই তিন জেলার সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তথ্য ও সনদ সবার আগে যাচাই করা হবে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলার সকল প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সনদ যাচাই করা হবে।
এনটিআরসিএ’র সহকারী পরিচালক ফয়জার আহমেদ বাসসকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন গণম্যাধমে এনটিআরসিএ’র জাল নিবন্ধন সনদ নিয়ে খবর প্রচার হতে দেখা যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ জাল নিবন্ধন সনদধারী শনাক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের গাজীপুর, নরসিংদী ও ভোলা জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তথ্য যাচাই করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলার ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিবন্ধন সনদ যাচাই করা হবে।
এনটিআরসিএ’র অপর এক কর্মকর্তা বাসসকে জানান, জাল নিবন্ধন সনদধারীদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে যাদের নিবন্ধন সনদ জাল পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
গত ৭ জানুয়ারি এনটিআরসিএ’র সদস্য (পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) মুহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক জরুরি পত্রে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে এনটিআরসিএ’র জাল সনদের খবর কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে জাল নিবন্ধন সনদধারী শনাক্ত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধানসহ সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষকের তথ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের এমপিও শিট এবং তাদের নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি যাচাই করা প্রয়োজন।
ওই পত্রে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নির্দিষ্ট ছকে সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষকের তথ্য, শূন্য পদের বিবরণ, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের এমপিও শিট এবং নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত রঙিন ফটোকপি ডাকযোগে, কুরিয়ারে বা বাহকের মাধ্যমে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। এসব তথ্যাদি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক স্বাক্ষরিত অগ্রায়ণপত্রসহ পাঠাতে হবে।
সংস্থাটি তাদের পত্রে সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই তথ্য প্রেরণে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে, তথ্য গোপন করলে বা সনদ টেম্পারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোকেও অবহিত করা হবে।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠির অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরসহ দেশের সকল জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের তাদের আওতাধীন সকল প্রতিষ্ঠানের তথ্য সময়মতো পাঠানো নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।