শিরোনাম

ঢাকা, ১০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।
এ লক্ষ্যে আজ নগর ভবনে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে একটি জরুরি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো এবং সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, অবৈধ টিকিট কাউন্টার উচ্ছেদ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতি এবং সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন শ্রমিক কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ টিকিট কাউন্টার, দোকান ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে যানজট ও যাত্রী দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সায়েদাবাদ ব্রিজের ঢাল থেকে টিটি পাড়া পর্যন্ত সড়কের পাশে গড়ে ওঠা সব অবৈধ টিকিট কাউন্টার নির্ধারিত সময়সীমা দিয়ে নোটিশ প্রদান করে অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি টার্মিনালের ভেতরে থাকা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া টার্মিনালের অভ্যন্তরে প্রকৃত বাস কোম্পানিগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে টিকিট কাউন্টার বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ কাজে ডিএসসিসি, বাস মালিক সমিতি এবং পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে সমন্বয় করবে।
টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে বাসগুলোকে ডিপো হিসেবে টার্মিনাল ব্যবহার না করে নির্ধারিত পাঁচটি বাস-বে ব্যবহার করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাত্রী ওঠানামার জন্য কোনো বাস সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি টার্মিনালে অবস্থান করতে পারবে না।
যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনালে নতুন তথ্যকেন্দ্র (ইনফরমেশন ডেস্ক) এবং মাতৃদুগ্ধ পান করানোর কক্ষ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদযাত্রার আগেই টার্মিনালের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ শেষ করা, শৌচাগার মেরামত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রতিরোধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সভায় পরিবহন মালিক সমিতিকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার বিষয়ে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া টার্মিনালের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত বাসগুলো জব্দ করে অপসারণের দায়িত্ব ট্রাফিক বিভাগকে দেওয়া হয়েছে, যাতে মূল সড়কে যানজট কমানো সম্ভব হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে যানজট কমাতে সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ, বাস মালিক ও শ্রমিক সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের স্বস্তি দিতে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’
এদিকে নতুন প্রশাসকের সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিচালনা কমিটির দ্বাদশ কর্পোরেশন সভাও আজ বিকেলে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বোর্ড সদস্যরা প্রশাসককে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ বাস্তবায়নে তিনি দৃঢ় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।