বাসস
  ১১ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩৯

চট্টগ্রামে আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার ৩

চট্টগ্রাম, ১১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম নগরে অভিযান চালিয়ে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন, মনির এবং সায়েম। তাদের মধ্যে রিমন ২০০০ সালের চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট ‘এইট মার্ডার’ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। তাদের কাছ থেকে একটি রিভলভার, একটি পিস্তল, একটি এসএমজি, গুলি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে চট্টগ্রামের চন্দনপুরা এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য সিআইপি মুজিবুর রহমানের বাসায় গুলিবর্ষণ করে মুখোশধারী চারজন সন্ত্রাসী।

অভিযোগ রয়েছে, দুবাইয়ে অবস্থানরত সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে প্রথমে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। চাঁদা না পেয়ে জানুয়ারিতেও ওই বাসায় গুলি চালানো হয়। প্রায় ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ লিখে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে পিস্তল, এসএমজি, চায়নিজ রাইফেল ও শটগান ব্যবহার করতে দেখা যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, অভিযানের সময় রিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানা থেকে লুট হওয়া একটি বিদেশি রিভলভার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। মনিরের দেখানো মতে ডবলমুরিং থানায় লুট হওয়া একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস ৯ মিলিমিটার পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সায়েমের তথ্য অনুযায়ী খুলশী এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।

ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, বড় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ রয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধেও হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা আছে। পলাতক সদস্যদের ধরতে এবং বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
তিনি বলেন, গ্রেফতার তিনজনই শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তারা সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্রভাবে অংশ নিতেন।