শিরোনাম

রংপুর, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): দেশের উত্তরাঞ্চলে বুধবার সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত ছিল মানুষ। তবে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া জনজীবনে স্বস্তি ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনে।
রংপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্থানভেদে ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে আজ সকাল ৯টায় ৭.৫ ডিগ্রি থেকে ৯.৩ ডিগ্রির মধ্যে ছিল। কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ ও ঠান্ডা বাতাসে হাড়কাঁপানো শীত অনুভব করে মানুষ।
তবে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে আজ ১৯.৮ ডিগ্রি থেকে ২৪ ডিগ্রির মধ্যে ছিল। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে এই মিষ্টি ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিয়েছে।
বিকেল ৫টায় রংপুর আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজার রহমান বাসস’কে বলেন, আগামী কয়েক দিনে রাতের তাপমাত্রা আরো কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।
তিনি পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, উত্তরাঞ্চলে আগামী কয়েক দিনে রাত ও সকালে আবহাওয়া ঠান্ডা ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং বিকেলে রৌদ্রোজ্জ্বল ও কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
আজ সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে তীব্র শীতের ফলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পার্থক্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। এতে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ বিপাকে পড়ে।
আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, সকাল ১০টা থেকে পরিষ্কার আকাশে সূর্য ওঠার পর থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, যা সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনজীবনকে সহজ ও আরামদায়ক করেছে।
আজ সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রংপুর শহরে ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিনাজপুরে ৮.৭ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ৮.৫ ডিগ্রি, তেঁতুলিয়ায় ৭.৫ ডিগ্রি, ডিমলায় ৮ ডিগ্রি, রাজারহাটে ৮.৫ ডিগ্রি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৭.৫ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ৯.৩ ডিগ্রি এবং গাইবান্ধায় ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রংপুরে ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিনাজপুরে ২২.৭ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ২৪ ডিগ্রি, তেঁতুলিয়ায় ২০ ডিগ্রি, ডিমলায় ২২.৫ ডিগ্রি, রাজারহাটে ২৩.৩ ডিগ্রি, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৯.৮ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ২২.৩ ডিগ্রি এবং গাইবান্ধায় ২১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিনাজপুরের সমাজকর্মী মাহতাব লিটন বাসস’কে বলেন, আজ সকাল থেকে সাধারণ মানুষ সূর্যের হাসিমুখ দেখেছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা মিষ্টি রোদে সতেজ অনুভব করছি। দিনাজপুরে কোনো কুয়াশা নেই। তবে, সকালে প্রচণ্ড ঠান্ডা লেগেছে। এখন আমরা বেশ আরামে আছি। আমি চাই শীত দ্রুত চলে যাক।
স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. গওসুল আজিম চৌধুরী বলেছেন, চিকিৎসকরা আজও হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে কাশি, জ্বর, হাঁপানি এবং অন্যান্য ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত অধিকসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন, যেমনটি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হয়ে আসছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ওষুধের মজুত রয়েছে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে শিশু ও নবজাতকসহ ঠান্ডাজনিত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মকর্তাদের মতে, তীব্র শীতের কারণে কাশি, জ্বর, হাঁপানি এবং অন্যান্য ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের শীতার্ত ও বিপর্যস্ত মানুষের মাঝে উষ্ণ বস্ত্র বিতরণ আরো জোরদার করেছে।
একই সময়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, পেশাজীবী, সমাজ-সাংস্কৃতিক ও দাতব্য সংস্থা, বাণিজ্যিক সংগঠন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য শীতবস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে।