শিরোনাম

আব্বাছ হোসেন
লক্ষ্মীপুর,৭ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : তীব্র শীতে লক্ষ্মীপুরে বেড়েছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় মেঝে ও বারান্দায় ঠাঁই হচ্ছে রোগীদের।
এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে শিশুসহ সব বয়সি রোগী ও তাদের স্বজনরা। প্রতিদিনই গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী শুধু সদর হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
এক সপ্তাহে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ৬ শতাধিক রোগী। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। একই অবস্থা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, ১০০ শয্যার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল। এই হাসপাতালে প্রতিদিনই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে রোগীরা। প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আর গত এক সপ্তাহে শুধু এই হাসপাতালেই ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬০০-এর বেশি রোগী।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জেলা শিশু হাসপাতালে ভর্তি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়া আউটডোরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো ৮০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে ১৫টি। প্রতি শয্যায় একজন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে প্রতি শয্যায় চিকিৎসা দিতে হচ্ছে তিনজন শিশুকে। এছাড়াও শয্যা সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দায় বা ফ্লোরে গাদাগাদি করে শিশুসহ নানা বয়সি মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে শয্যার তুলনায় ৬ গুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। কমলনগর, রামগতি, রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ঘুরেও একই চিত্র দেখা যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, প্রতিদিনই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতি শয্যায় একজন করে শিশুকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলেও, পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে এক শয্যায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালে হাঁটা চলা যায় না।
বারান্দায় ও শিশু ওয়ার্ডের মেঝেতে শিশুদের রাখা হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাদের স্বজনরা।
রোগীর স্বজনরা বাসসকে বলেন, চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছি। জায়গার তুলনায় রোগী ভর্তি রয়েছে কয়েকগুণ বেশি। একদিকে তীব্র শীত, অন্যদিকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে শিশুরা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের টয়লেট ও আশপাশের জায়গায় নোংরা পরিবেশ। দ্রুত এসব বিষয় সমাধান করার দাবি জানান রোগীদের স্বজনরা।
সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. ইছমাইল হাসান বলেন, ঠাণ্ডাজনিত কারণে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
এটি সামনে আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এসময় শিশুদের গরম কাপড় পরিধানসহ খাওয়াদাওয়ারও বিশেষ যত্ন নিতে হবে। যাতে তারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত না হয়। এছাড়াও চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. অরুপ পাল বাসসের সাথে আলাপকালে বলেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।
তিনি জানান, ১০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বর্তমানে রোগী ভর্তি আছে ৩০০ জন। এছাড়া শীতজনিত রোগে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর ও সর্দি- কাশি নিয়ে এক সপ্তাহে ৬০০ এর বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।