বাসস
  ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১২

বীরগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

মঙ্গলবার জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় রহিম বখশ উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তি প্রদান করা হয়। ছবি : বাসস

দিনাজপুর, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় রহিম বখশ উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার রহিম বখশ উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে এ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন তিন কৃতি শিক্ষার্থীর অর্থায়নে গঠিত নুর নাহার ফাউন্ডেশন থেকে এই বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সমিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নুর নাহার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. আহমেদ খায়রুল আলম, বিশিষ্ট গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেরুন্নেসা মিনু, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অসবরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক জিন্নাতুন নাহার, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, ইসলামী ব্যাংক বীরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমিজ উদ্দিন জানান, নুর নাহার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ৫ ভাই-বোন এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাঁদের মায়ের নামে নুর নাহার ফাউন্ডেশন গঠন করেছেন তারা। সেই ফাউন্ডেশন থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ প্রতি বছর শ্রেনী ভিত্তিক মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। এবছর প্রথম বারের মত এই বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের যাত্রা শুরু করা হলো।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক জিন্নাতুন নাহার বলেন, প্রথম শ্রেনীতে পড়াকালীন সময়ে বাবাকে হারিয়েছি। মা এবং বড় ভাইয়ের প্রচেষ্টায় ভাই-বোনদের মধ্যে ৩'জন বিসিএস পাশ করে শিক্ষক ও চিকিৎসক হয়েছি। মায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই ফাউন্ডেশন করেছি। ভাই বোনরা সবাই এই বিদ্যালয়ে পড়েছি। বিদ্যালয়ের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে এই বৃত্তি চালুর ব্যবস্থা করেছি।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. আহমেদ খায়রুল আলম বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাস করে মা ও এবং বড়ভাইয়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও উৎসাহে এই বিদ্যালয় থেকেই পাশ করে চিকিৎসক হয়েছি। শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্যে পৌছতে নিজেদের মিশন ও ভিশন ঠিক রাখার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, বীরগঞ্জ উপজেলার ভাবকী গ্রামে রহিম বখশ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৪ সালে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬ শতাধিক এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ২২জন। এদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান ও আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে।