বাসস
  ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪১

জনবল সংকটে জুরাছড়ির একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত জুরাছড়ির একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ‘ভুবন জয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ । ছবি : বাসস

\ মনসুর আহম্মেদ \

রাঙামাটি,৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত জুরাছড়ির একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ‘ভুবন জয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ । এতে উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। 

জেলার জুরাছড়ি উপজেলায় ৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনের একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান ভুবন জয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত এই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

২০২২ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ঠিকাদার প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ উত্তোলন করে কাজ অসম্পূর্ণ রাখায় সংকটে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে ভবনের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও নির্মাণ সামগ্রী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পড়ে রয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ নিজ উদ্যোগে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বাসসকে জানিয়েছেন তদারকির দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইসলাম খান পারভেজ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভবন সমস্যার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে। সিনিয়র সহকারী শিক্ষকের ১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। সহকারী শিক্ষক ১৩টি পদ থাকলেও কাগজে-কলমে কর্মরত রয়েছেন পাঁচজন। তৃতীয় শ্রেণির দুটি ও চতুর্থ শ্রেণির চারটি পদ প্রায় দুই যুগ ধরে শূন্য রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনের ভবন নির্মাণ সামগ্রীর স্তূপ মাটিতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পড়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ের রুটিন অনুযায়ী পুরোনো ভবনের বারান্দায় ও চলাচলের রাস্তায় শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে অ্যাসেম্বলি করানো হচ্ছে। অ্যাসেম্বলি শেষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাঠ নিচ্ছেন অস্থায়ী কমপিউটার অপারেটর সুজন চাকমা (সরকারি নিয়োগ প্রাপ্ত নয়)। নবম শ্রেণিতে ক্লাস নিচ্ছেন সহকারী শিক্ষক মো. আল-আমিন হোসেন এবং সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান করছেন সিনিয়র শিক্ষক শান্তিময় চাকমা। অফিস কক্ষে ভর্তি কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন ইলিয়াস আহমেদ। আর শিক্ষক অনুপস্থিতির কারণে অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বারান্দায় ঘোরাফেরা ও কোলাহল করতে দেখা যায়। 

বিদ্যালয়ের বেসরকারি শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমন চাকমা বাসসকে বলেন, ‘গত বছর বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সঠিক তদারকি না থাকায় কিছু শিক্ষক সুযোগ নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। কেউ কেউ মাসে দুই একদিন এসে চলে যান।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মো. ফরহাদুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুনে যোগদান করলেও এ পর্যন্ত ১৫ দিনও ক্লাস নেননি। অন্যদিকে বছরের প্রথম কার্যদিবসে সহকারী প্রধান শিক্ষক রাজিব ত্রিপুরা ছুটিতে ছিলেন। এদিকে বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক মো. আরমান শাহ, মো. ফরহাদুল ইসলাম ও মো. মেহেদী হাসান। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

সিনিয়র শিক্ষক শান্তিময় চাকমা বাসসকে বলেন, শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক সংকট রয়েছে। তবে পদায়িত শিক্ষকরা নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন, কিছু শিক্ষক নিজেদের পারিবারিক সমস্যার কথা বলে ছুটিতে চলে যান। একবার গেলে আসার আর খবর থাকেনা। যা শিক্ষায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

এ বিষয়ে জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বাসসকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট ও অনুপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’