বাসস
  ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩২
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩৮

দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড, মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

ফাইল ছবি

রোস্তম আলী মন্ডল 

দিনাজপুর, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস):উত্তরের জেলায় গত কয়েকদিন ধরেই তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন আজ বুধবার দুপুরে জানান, আজ সকাল ৯ টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৯৪ কি.মি. প্রবাহিত হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা বিরাজ করলে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বলা হয়। সে হিসেবে দিনাজপুর অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলমান রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার একই সময়ে এখানে তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৯ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ১৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ, দিনের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান ছিলো মাত্র ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

উত্তরের জনপদ এই অঞ্চলে, কনকনে শীতে বিপর্যস্ত সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। রাতে বেলা শীতল বাতাস প্রবাহিত ও ঘন কুয়াশায় শীতের দাপট আরও বেড়ে যায়। দিনের বেলা দুপুর পর্যন্ত  ঘন কুয়াশায় জেলার সর্বত্রই আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। সন্ধ্যা থেকে দুপুর পর্যন্ত শীত বেশি অনুভব হচ্ছে।

কনকনে শীতে দরিদ্র,দিনমজুর ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষেরা দুর্ভোগে পড়েছে।ঠিকমত কাজে যেতে পারছেন না এসব মানুষেরা। সন্ধ্যা থেকে দিনের বেলা দুপুর ১২'টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় রাস্তাঘাট ঢাকা থাকায়, চালকেরা যানবাহন চলাচলে বিপাকে পড়ছে। একাধিক চালককের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,তারা সকালের দিকে যানবাহনে হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

দিনাজপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান জানান,আজ পর্যন্ত জেলার ১৩'টি উপজেলায় ১০ হাজার পিস কম্বল ও ১২ হাজার পিস সুয়েটার-জ্যাকেট ও শিশু পোশাক বিতারণ করা হয়েছে। আরো শীতবস্তের চাহিদা পত্র ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ  প্রাপ্তি সাপেক্ষে শীতার্ত জনগোষ্ঠীর মাঝে শীত বস্ত্র বিতারণ করা হবে বলে তিনি ব্যক্ত করেন।

জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,সরকারি ভাবে প্রাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন মহল থেকে শীতার্ত জনগোষ্ঠীর মাঝে   শীতবস্ত্র বিতারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি সকল শ্রেণীর পেশার মানুষকে সাধ্যমত, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।