শিরোনাম

/মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/
খুলনা, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): পৌষের তীব্র শীতে খুলনায় জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে, খুলনার বৃহত্তম শিশু হাসপাতাল এবং খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরে রোগীর চাপে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম থেকে গত কয়েকদিন ধরে খুলনা অঞ্চলে শৈত্য প্রবাহ বয়ে চলেছে। তীব্র ঠাণ্ডায় শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে জ্বর, সর্দি-কাশি, কোল্ড ডায়ারিয়া, পেটের পীড়া এবং নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে। আর এসব রোগী আনা হচ্ছে খুলনা শিশু হাসপাতালে।
সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ১৯৫ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৪০০ জন শিশুকে বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
খুলনা শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ জনের বেশি শিশু নিয়ে চিকিৎসার জন্যে বসে আছেন মায়েরা। তাদের সবাই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জ থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে রোগীরা এখানে আসছেন।
অভিভাবক নুরুন্নাহার বেগম বলেন, তার তিন বছরের শিশু সন্তান হায়দারকে এ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। গত রবিবার হঠাৎ জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হলে স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিভাবক সুমি বেগম জানান, তার ছেলে বৃহস্পতিবার রাতে কোল্ড ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়। গত শনিবার সকালে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের প্রচণ্ড ভিড়। বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের প্রতিটি কক্ষের সামনেই অর্ধশতাধিক রোগীর লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর তাদের ডাক্তার দেখাতে হচ্ছে।
এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নগরীর টুটপাড়া এলাকার বৃদ্ধা সালেহা বেগম বাসসকে বলেন, প্রচণ্ড শীতে সর্দি কাশি হয়েছে। কোনোভাবেই নিরাময় হচ্ছে না। আবার কাশির কারণে গরম পানি পান করতে হচ্ছে। এ কারণে সরকারি এ হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। কিন্তু রোগীর ভিড়ের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডালিয়া বেগম বলেন, গত তিনদিনে খুলনায় প্রচণ্ড শীত পড়েছে। এ সময় হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৪০০ শিশু। ঠান্ডাজনিত ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৫ শিশু ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. মাজহারুল ইসলাম বাসসকে বলেন, রোগীতে পরিপূর্ণ রয়েছে হাসপাতালটি। বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া এবং ডায়ারিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন জেলার রোগীরা এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসছে।
শিশুদের যাতে কোনো রকমের ঠাণ্ডা লাগতে না পারে, সে জন্য এই শীতে ঘরের ভেতর গরম আবহাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করার পরামর্শ দেন তিনি।