শিরোনাম

।। শফিকুল ইসলাম বেবু।।
কুড়িগ্রাম, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের নিম্নআয়ের মানুষজন দুর্ভোগে রয়েছেন।
আজ বুধবার রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৯ শতাংশ। এর ফলে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
ভোর থেকে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে দিনমজুর, নৌকার মাঝি, কৃষিশ্রমিক ও ভ্যানচালকদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। কাজ না থাকায় তাদের আয় বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা অনেক পরিবারের খাদ্যসংকটের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চরাঞ্চলগুলোতে শীতবস্ত্রের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া জানান, আমাদের ইউনিয়নের ৩০টির বেশি চরে প্রায় ৩২ হাজার মানুষ বসবাস করে। প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ মানুষ কম্বলের আশায় আসছেন। সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০০টি কম্বল পাওয়া গেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, কুড়িগ্রামে মোট ৬১টি এনজিও নিবন্ধিত রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চলমান শৈত্যপ্রবাহে চরাঞ্চলে এনজিওগুলোর কার্যক্রম তেমনভাবে দৃশ্যমান নয়।
কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, জেলায় প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র, ৫৩ শতাংশ হতদরিদ্র এবং ৩৭ শতাংশ ভূমিহীন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ৯৮৯ জন। শীতের এই সময়ে এসব মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, শীতবস্ত্র বিতরণের সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন সীমান্তঘেঁষা অনেক চরাঞ্চলে এখনো শীতবস্ত্র পৌঁছায়নি।
তিনি আরও জানান, কালজানি নদীতীরবর্তী ভুরুঙ্গামারীর শিলখুরি ইউনিয়নের কাজিয়ার চর থেকে শুরু করে চর রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের বড়বের চরসহ প্রায় ২৬৯টি চরে শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে অনেক কম।
এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, জেলার ৯ উপজেলায় এ পর্যন্ত মোট ২৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের মতে, সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনায় চরাঞ্চলে শীতবস্ত্রের চাহিদা অনেক বেশি। ফলে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে শীতজনিত দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।