শিরোনাম

/বিপুল আশরাফ/
চুয়াডাঙ্গা, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): জেলায় প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রা। গতকাল মঙ্গলবার থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে জেলার উপর দিয়ে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ বুধবার সেটা আরো কমে ৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। যা এ মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, আজ বুধবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে সাধারণত তাপমাত্রা হ্রাস পায়। তারপরেও ঝলমলে রোদ ওঠার কারণে মানুষ আজ অনেক স্বস্তিবোধ করছে।
তিনি বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবারও এরকম আবহাওয়া বিরাজ করবে। শুক্রবার থেকে আবার মেঘলা আকাশ ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল পথ ঘাট। গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মতো ঝরেছে কুয়াশা। রাত যত গভীর হয় কুয়াশার মাত্রা তত বাড়ে। ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ছোট হয়ে আসে। সড়কে মানুষের চলাচল তেমন একটা ছিলনা। খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করেছে সাধারণ মানুষ। ঠাণ্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতের তীব্রতার কাছে একরকম অসহায় হয়ে পড়েছে। জেলায় গত দুই দিন সূর্যের দেখা নেই। বেশিরভাগ মানুষ ঘরবন্দি জীবনযাপন করেছেন।
তবে আজ বুধবার সকাল ৯টায় সূর্যের দেখা দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। বেলা সাড়ে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আকাশ জুড়ে ঝলমলে রোদ ছিলো। সে কারণে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডা উপেক্ষা করেই দিনমজুররা কাজে বের হয়েছেন। মাঠে ধান লাগানোসহ নানা কাজে সকাল সকাল বাড়ি থেকে বের হতে বাধ্য তারা।
দিনমজুর কবির হোসেন বলেন, সকাল থেকে শীত খুব বেশি পরিমাণে পড়ছে। হিমশীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশা শীতকে আরো ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। এই শীতের কারণে আমরা বেশ কষ্টে আছি। নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে যেতে আমাদের অসুবিধা হচ্ছে। সকালবেলা উঠে কাজে আসা আর হচ্ছে না। তাই একটু বেলা করেই কাজে আসতে হচ্ছে আমাদের।
রিকশাচালক সিদ্দিক আলী বলেন, শীতের কারণে রিকশাতে যাত্রী সংখ্যাও কম। আগে সকালে এবং রাতে ভালোই উপার্জন হতো। কিন্তু বর্তমানে শীতের তীব্রতা বাড়ায় যাত্রী নেই বললেই চলে। এই শীতে সকালে এবং রাতে রিকশা নিয়ে বের হওয়াটাও কষ্টের।
সদর উপজেলার বাসিন্দা জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় বেকায়দা শীত পড়ছে। তীব্র ঠাণ্ডা ও বাতাসের কারণে শরীরে কাঁপুনি ধরে যাচ্ছে। সকালেই খড়কুটোয় আগুন জ্বেলে শরীরকে উষ্ণ করার চেষ্টা করেছি। তার পরপরই আবার বাতাস এবং কুয়াশায় ঠাণ্ডায় জমে যাওয়ার অবস্থা।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘শৈত্য প্রবাহের কারণে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৯৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৯০ জন শিশু। এছাড়া ১০০ বেডের হাসপাতালে ৩১৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।