শিরোনাম

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন
ফেনী, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ফেনী হর্টিকালচার সেন্টারসহ জেলার সর্বত্র খুদে কাঠবিড়ালির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবজি ও ফল-ফলাদির বাগান। খুদে হিংস্র এ প্রাণীটি এখন শুধু এ সম্পদগুলোই খাচ্ছে না, বরং প্রতিনিয়ত ধ্বংস করছে এ অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের আয় রোজগারের পথ।
হর্টিকালচার সেন্টারের উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বাসসকে বলেন, এখানে সাড়ে ৩ শতাধিক ছোট বড় নারকেল গাছ রয়েছে। সব গাছে কাঠবিড়ালি আক্রমণ করে নারকেল ও ডাবগুলো নষ্ট করে ফেলেছে। এতে প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকার ফল নষ্ট হচ্ছে।
হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ নয়ন মনি সূত্রধর বলেন, কাঠবিড়ালির উপদ্রব অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন দল বেঁধে কাঠবিড়ালি ঢুকে পড়ে এ সেন্টারে। একদিক দিয়ে তাড়া করলে অন্যদিক দিয়ে প্রবেশ করে। এখানে অনেক বড় বড় গাছ থাকায় এদের তাড়া করলেও যেতে চায় না। এখানে প্রায় ছোট বড় তিন শতাধিক নারকেলের একটি বাগান আছে। এসব গাছের নারকেল ও ডাব নষ্ট করছে। এ ছাড়াও এখানে গ্রামীণ ফলজ আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপে, পেয়ারা, জলপাই, লেবু, আমড়া, আতা, বরইসহ হরেক রকম গাছ রয়েছে। এসব গাছের ফলও নষ্ট করছে কাঠবিড়ালি।
তিনি বলেন, এই সেন্টার অনেক বড় এলাকা জুড়ে হওয়ায় এদের একদিক দিয়ে তাড়া করলে অন্য দিকে চলে যায়, অথবা বড় গাছের উপরে উঠে যায়। বন্যপ্রাণী আইনে এদের মারা যায় না। কিন্তু এই কাঠবিড়ালিই প্রতি মাসে প্রায় লাখ টাকার ফল ও মুকুল নষ্ট করে ফেলছে।
জানা যায়, কাঠবিড়ালি প্রতি মিনিটে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট লাফিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এবং এক গাছ থেকে অন্য গাছে যেতে পার। কাঠবিড়ালির গ্রামীণ নাম ‘ছলা'। তাদের ধরা যেমন : কঠিন, আবার মারার সব কৌশল যেন আরো কঠিন। প্রতিনিয়ত ওই প্রাণীটির হিংস্র থাবায় সকালে প্রতিটি ফলজ ও সবজি গাছের তলায় নষ্ট করা আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায় সারাবছরই নারিকেল ও ডাবের উপর ছাড়াও বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে আম, কাঁঠাল ও লিচুর ওপর হিংস্র তাণ্ডব চালায় ওই কাঠবিড়ালির পাল।
এ অঞ্চলে সারাবছরই বেশির ভাগ ফলজ ও সবজি বাগানে এ হিংস্র প্রাণীটির বসবাস। কাঠবিড়ালির অত্যাচারে মানুষ হারাচ্ছে কয়েক লাখ টাকার স্বপ্নের ফলজ ও সবজি পণ্য। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধান অন্তরায় সৃষ্টি করে চলেছে এ খুদে প্রাণীটি। এ অঞ্চলের প্রতিটি গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে ওইসব ফলজ ও সবজির বাগানে কাঠবিড়ালির দৌরাত্ম্য যেন থামছে না। ওদের প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বাগান মালিকরা। প্রাথমিকভাবে, সাধারণ মানুষ হিংস্র কাঠ বিড়ালির বেপরোয়া অত্যাচার থেকে বাগানের ফসল রক্ষার্থে টিন দিয়ে শব্দ বাজানোর মতো ফাঁদ তৈরি করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। একটা সময় কিন্তু এ ক্ষুদ্র প্রাণীটি মানুষের আনাগোনাকে ভয় পেতো, এবং সুযোগ বুঝে দিনের বেলায়ও ফল-ফলাদি এবং সবজি বাগানে রাজত্ব চালাতো। কিন্তু বর্তমানে দিন কিংবা সারারাত ধরে তাদের অবাধ রাজত্ব চলে আসছে। কিছুই করার নেই মানুষের। সারা বছর উৎপাদন হয় নানা জাতের মূল্যবান ফল-ফলাদি ও সবজি। কিন্তু ওইসব ফসল চোখের পলকেই নির্বিচারে খেয়ে এবং নষ্ট করে ফেলছে কাঠবিড়ালি। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। কখনো গাছে ফল না থাকলে এরা নিচে নেমে পড়ে। এসময় বিভিন্ন চারা গাছের বাকল কেটে নষ্ট করে।
পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের চাষি নিলয় কিবরিয়া জানান, তার অর্ধশতাধিক নারকেল গাছে ডাবে পানি আসার আগেই কাঠবিড়ালি নষ্ট করে ফেলে। এতে নিরুপায় হয়ে গাছে পলিথিন ও টিন বেঁধেও কাজ হচ্ছে না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. মাসুদ হোসেন জানান, বন্যপ্রাণী নিধন করা নিষিদ্ধ। এছাড়া এ বন্যপ্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কোনো কৃষকের বেশি ক্ষতি করলে, আমরা ফলফলাদিকে জাল দিয়ে বন্ধ করতে অথবা বাগানের চারপাশে জালে আবদ্ধ করতে বলি।
এ ব্যাপারে জেলা-উপজেলা, প্রাণিসম্পদ, বন বিভাগ ও কৃষি দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা।