বাসস
  ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:০৫

খুলনায় রোদের দেখা নেই, শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত

পৌষের শেষার্ধের জেঁকে বসা শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। ছবি : বাসস

।। মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।।

খুলনা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) :পৌষের শেষার্ধের জেঁকে বসা শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। 

কুয়াশা, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ এবং হিমেল হাওয়া মিলে নগরীসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো যেন তীব্র শীতে কাঁপছে। এছাড়া আকাশে সূর্যের কিরন না থাকায় এ শীত আরো বেশি অনুভূত হচ্ছে। আকাশে উঁকি দেয়নি সূর্য। ফলে রোদেরও দেখা নেই।

এদিকে, তীব্র শীতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল সোমবার থেকে কর্মব্যস্ত নগরবাসী শীতের কবলে পড়ে বিপর্যস্ত। সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া তেমন কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। যদিও কেউ বের হচ্ছেন, হবে মোটাসোটা গরম পোশাক গাঁয়ে জড়িয়ে। 

তাছাড়া তীব্র শীতের কারণে নগরীর পাইকারি সবজির বাজার, বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, সড়কে ক্ষুদ্র-মাঝারী পরিবহনগুলোর উপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আজ মঙ্গলবারও শীতের তীব্রতা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, শীতের দাপটে নগরীর বিপনী বিতান, গামেন্টস্,পুরানো শীতবস্ত্র দোকানসহ ফুতপাতের পোশাকের দোকানগুলো ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মৌসুমী শীত পোশাক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শীত বেশি পড়ায় বাজারে বেশ ক্রেতাদের সাড়া মিলছে। শীত যত বাড়বে, ততই বাজারমুখি হবেন ক্রেতারা।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর স্থানীয় এলাকাগুলোতে শীতের কবল থেকে রক্ষা পেতে প্রায় সব বয়সী মানুষ সাময়িকভাবে আগুন জালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, কুয়াশা, উত্তরের বাতাস ও আকাশে সূর্যের কিরন না থাকায় বেশি শীতের অনুভূত হচ্ছে।
নগরীর দৌলতপুরের ঋষিপাড়ার বাসিন্দা মো. আসলাম জানান, আকাশে সূর্যের দেখা নেই। বাইরে মনে হচ্ছে বরফ পড়ছে। তাছাড়া শেষ রাতের দিকে প্রচন্ড কুয়াশা ও ঠান্ডা বাড়ে। মোটা পোশাক পরেও শীতে কাপি। তাই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করি।

রিকশা চালক শাহীন জানান, কয়েকদিনের আগের তুলনায় বর্তমানে বাইরে প্রচুর ঠান্ডা পড়ছে। সোয়েটার, মাথায় টুপি আর জুতা পরে গাড়ি চালাচ্ছি, তবুও ঠান্ডা লাগে। কারণ বাইরে প্রচুর বাতাস আর ঠান্ডা। মনে হচ্ছে বাইরে যেন বরফ পড়া শুরু করছে। তাছাড়া সূর্যের আলোও নেই। ঠান্ডায় যাত্রী কম, চালের টাকা তুলতে পারছি না।

ইজিবাইক চালক মো. লাভলু জানান, কয়েকদিন আগের তুলনায় বর্তমানে খুব শীত পড়ছে। বাইরে বেশী ঠান্ডা, মোটা কাপড় পড়েও রক্ষা মিলছেনা। বাইরে তেমন যাত্রী নেই, গাড়ী ভাড়া ওঠানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া রাত যতই বাড়তে থাতে ততই ঠান্ডার মাত্রা বাড়তে থাকে।

শীত পোশাক ক্রেতা শাহিদা জানান, গত কয়েকদিনের তুলনায় গতকাল খুব শীত, মনে হচ্ছে বরফ পড়ছে। সেই সঙ্গে  প্রচুর বাতাস। তাছাড়া কুয়াশা পড়ছে, বিশেষ করে মাঝ রাতে বেশী ঠান্ডা পড়ছে। শীতের কারণে জ্বর, সর্দি, কাশির প্রকোপ বেড়েছে। বড় বড় দোকান হতে শীতের কাপড় কেনার মতো টাকা আমার কাছে নেই। তাই এলাম ফুটপাতের দোকানে বাচ্চার জন্য শীতের কাপড় কেনার জন্য। তবে দাম একটু বেশি।

খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড শীতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নগরবাসী ঘরের বাইরে আসেনি। রাস্তাঘাট অনেকটা জনমানবহীন থাকায় ছোট যানবাহনের সংখ্যা ছিলো অনেক কম। সারা দিনে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি কোথাও। তীব্র শীতের কারণে স্থবির হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। ভোগান্তিতে পড়ে খেটে খাওয়া দিন মজুর, ভ্যান, অটো, সিএনজি, রিকশা চালকেরা। রাস্তায় যাত্রীর সংখ্যা অনেক কম থাকায় ছোট যানবাহনের চালকরা অলস সময় পার করে। ফলে দিনশেষে একপ্রকার খালি হাতেই ঘরে ফিরতে হয় তাদের। শীতের কারণে শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে বা রাস্তার পাশে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণে জড়ো হয় নিম্ন আয়ের মানুষ।

খুলনা- সাতক্ষীরা রোডের বাস চালক দাউদ হোসেন বলেন, ‘শীতের কারণে যাত্রী অনেক কম। জরুরি কাজ ছাড়া কেই এই ঠান্ডাতে বাহিরে বের হচ্ছে না।’

ভ্যান চালক সাইফুল বলেন, ‘সারা দিন তেমন কোনো যাত্রী ও মালামাল পাইনি। রাস্তায় লোকজন কম থাকায় আয় হয়নি।’

এদিকে, প্রচণ্ড শীতে কারণে জমে উঠেছে খুলনা নগরীর বড় বাজার, ডাকবাংলা মোড়, ফেরিঘাট, শপিং কমপ্লেক্স, জব্বার মার্কেট ও রাস্তা পাশের হকারদের দোকান গুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক কিনছেন।

ফেরিঘাট মোড়ের শীতের পোশাক বিক্রেতা শুকুর আলী বলেন, ‘বর্তমানে কাস্টমার একটু বেশি শীতের করণে। গত বছরের থেকে এ বছর বেচা কেনা কিছুটা বেশি।’

পোশাক কিনতে আসা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘গত কয় এক বছর এর চেয়ে এ বছর শীত বেশি হওয়াতে পোশাকের চাহিদা বেশি।’

জব্বার মার্কেটের নয়ন এন্টারপ্রাইজের পরিচালক শাওন বলেন, ‘শীতের শুরুতে এখন এর চেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়েছে। এখন ভিড় বেশি, বেচা কিনা স্বাভাবিক।’

অপরদিকে, খুলনা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে দোলা পরিবহনের কাউন্টার প্রতিনিধি সাবিত বলেন, শীতের কারণে যাত্রী কিছুটা কম। আমাদের সকাল পাঁচটা থেকে সিডিউল। কুয়াশার কারণে পাঁচটার সিডিউল বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি গুলো যথা সময়ে সাড়ে পাঁচটা থেকে চলমান।

যাত্রী ওবাইদুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার শীত বেশী পড়েছে। জরুরি কাজ, সে কারণে যাতায়াত। জরুরি না হলে এ শীতে বের হতাম না।’