বাসস
  ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৭

তীব্র শীতে জবুথবু রাজবাড়ী

ছবি: বাসস

মোশারফ হোসেন

রাজবাড়ী, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশায় রাজবাড়ী জুড়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। শীতের প্রকোপে বিশেষ করে নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো ও নিম্নআয়ের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। শীতের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঘর থেকে বের হওয়াই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া মানুষগুলো আশ্রয় নিয়েছে শহরের রেললাইনসংলগ্ন বস্তি ও খোলা স্থানে। 

জেলা সদরের লক্ষ্মিকুল এলাকার রেললাইনের পাশে ড্রাই আইস সংলগ্ন বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া লুৎফুন্নেছা বেগম (৬৫) জানান, তিনি রাজবাড়ীর আমবাড়ি আর চর গ্রামের বাসিন্দা। বন্যা ও নদীভাঙনে ঘর হারিয়ে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে এখানে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

বয়সের ভারে মুখে ভাঁজ পড়েছে তার। সরকারি, বেসরকারি সাহায্যের আশায় দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন—কিন্তু খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।

একই অবস্থার শিকার মনোয়ারা বেগম (৬২)। স্বামী গোলাপ আলী সরদার বহু বছর আগে মারা গেছেন। চর কুশেহাটা গ্রামের বাসিন্দা এই নারী কয়েক বছর ধরে পাংচুরিয়া রেললাইনের পাশের বস্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শীতার্ত মানুষের জন্য জেলায় ৫ হাজার পিস কম্বল বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে প্রত্যেক উপজেলায় ৭০০টি করে কম্বল বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট ১ হাজার ৫০০টি কম্বল এবং স্থানীয় আশা এনজিওর দেওয়া ৪০০ কম্বলসহ মোট ১ হাজার ৯০০টি কম্বল জেলা প্রশাসক নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করেন।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপমা রায় জানান, জেলা প্রশাসন থেকে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায় এবং সর্বমোট ১ হাজার ৮৮০ টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তবে সদর উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষের আবেদন থাকলেও সে অনুপাতে বরাদ্দ আসেনি।

এদিকে, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে সকল প্রকার ফেরি ও নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই পদ্মা নদী এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বাড়তে থাকে। গভীর রাতে নদীতে দৃশ্যমানতা বিপর্যয়কর পর্যায়ে পৌঁছালে নৌপথের মার্কিং বাতি অস্পষ্ট হয়ে পড়ে এবং নৌযান চলাচলে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। শীতের রাতে ঘাট এলাকায় আটকে পড়া যাত্রী, চালক ও সহকারীরা—বিশেষ করে নারী ও শিশুরা—চরম দুর্ভোগে পড়েন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, ঘন কুয়াশার কারণে রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরিসহ সকল নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। আজ সকাল সোয়া ৭টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব কমে এলে পুনরায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় ঘাট এলাকায় আটকে থাকা যানবাহনগুলো ধীরে ধীরে চলতে শুরু করে। এতে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

তবে শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও বস্তিতে বসবাস করা মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আরও জরুরি সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।