শিরোনাম

জাহিদুল খান সৌরভ
শেরপুর, ২ জানুয়ারি, ২০২৫ (বাসস): শেরপুরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও সড়ক-মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা না দেওয়ায় তীব্র শীত ও ঠান্ডা বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
প্রয়োজনের তাগিদে সকাল থেকেই কাজে বের হতে দেখা গেছে শ্রমজীবী মানুষ ও রিকশাচালকদের।
দিনমজুরদের অনেকে কাজে যেতে না পেরে ইনকামও কমেছে তাদের। এর ফলে অনেক পরিবারের সদস্যদের খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।
এদিকে তীব্র শীতে অভিজাত শপিং মলের পাশাপাশি ফুটপাতে গরম কাপড় বিক্রি বেড়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. কহিনুর জাহান শ্যামলি জানান, এই তীব্র শীতে সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ মানুষ। প্রতিদিন ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।
শেরপুর জেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, আজ সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে।
শীতে ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডায় মূলত বোরো ধানের বীজতলা, আলু, টমেটো, পেঁপে, সরিষা, ডাল ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে আলু ক্ষেতে লেট ব্লাইট বা পচন রোগ দেখা দেয়। এছাড়া তীব্র শীতে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, চারা হলুদ হওয়া এবং পরাগায়নে সমস্যা দেখা দেয়। যা ফলন কমিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কৃষকরা বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে অথবা খড় ও পাতা দিয়ে গোড়া ঢেকে রাখলে এবং প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব।