শিরোনাম
রাজশাহী, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : দেশে সারের কোন সঙ্কট নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়া।
তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। এ মৌসুমে সার নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিজমি ও সেচ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এমদাদ জানান, সার সঠিকভাবে ব্যবহার করলে গম, আলু, ডাল, সরিষা ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ফলন ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এজন্য কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরো বলেন, কৃষকদের সার খরচ কমানো ও ফলন বাড়াতে ‘খামারি অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। এ অ্যাপে জমির ধরন অনুযায়ী ফসল, সার ও বীজের সঠিক পরিমাণ জানানো হয়। এ অ্যাপ ব্যবহার করে ধান চাষ করলে প্রতি বিঘায় এক মণ (৪০ কেজি) পর্যন্ত ফলন বাড়তে পারে এবং সার খরচ প্রায় এক হাজার টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব।
ড. এমদাদ উল্লাহ গোদাগারি উপজেলার লালদিঘি এলাকায় ২০৬ বিঘা জমিতে খামারি অ্যাপের মাধ্যমে সার ব্যবহারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন প্রকল্প পরিদর্শন এবং কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
দিনব্যাপী এই পরিদর্শনে কৃষি সচিব জানান, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)’র সহায়তায় এ অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ও উন্নয়নে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আগে বছরে একটি মাত্র ফসল ফলত। আর এখন তিন ফসল হচ্ছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
এ সময় বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক তরিকুল আলম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাইফুল আলম, অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান, বিএমডিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুল হুদা, ড. আবুল কাসেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম মাহফুজুর রহমান, নাজিরুল ইসলাম ও শিবির আহমেদসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি সচিব এমদাদ মিয়া বরেন্দ্র এলাকায় শুধু ইরি-বোরো চাষের ওপর নির্ভর না করে কম সেচ নির্ভর খাদ্য শস্যের আবাদ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, পানি সঙ্কট মোকাবিলায় কম পানি ব্যবহারকারী ফসলের আবাদ একটি কার্যকর উপায় হতে পারে।
শুষ্ক ও খরা প্রবণ বরেন্দ্র এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার একটি কার্যকর ব্যবস্থা হতে পারে। এই এলাকার অসংখ্য প্রাকৃতিক জলাশয় বর্তমানে পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিএমডিএ’র বহু অবদান রয়েছে।
রাজশাহী-রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার ১৩৫টি উপজেলায় বিএমডিএ কৃষি ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এ অঞ্চলের সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে।