শিরোনাম
সাব্বির আহমেদ
লালমনিরহাট, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : মসলাজাতীয় পণ্য চুইঝালের অবস্থান খুলনা অঞ্চলে পাকাপোক্ত হলেও এর গণ্ডি এখন সারাদেশে। চাহিদার পাশাপাশি জনপ্রিয়তাও বেড়েছে এ মসলার। দেশের উত্তরের লালমনিরহাটেও দিন দিন বাড়ছে দেশি মসলা চুইঝালের চাষ। এ মসলা চাষে বাড়তি আয় করছে জেলার অনেক পরিবার।
জানা গেছে, চুইঝাল চাষে কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। বিনা খরচে চুইঝাল চাষ করা যায়। এর গাছ দেখতে পান গাছের মতো। লালমনিরহাটে তাই এটি ‘চইপান’ নামে পরিচিত। যে কোনো গাছে এর চারা রোপণ করা সম্ভব। বিনাখরচে আয় করা যায় বলে চুইঝাল চাষে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
সরেজমিনে কালীগঞ্জ উপজেলায় দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়ির সুপারি, নারিকেল বা অন্য কোনো গাছ বেয়ে উঠেছে চুইঝালের গাছ। লতা জাতীয় পরজীবী এ উদ্ভিদটি ফলদ, বনজ ও সুপারি গাছে চাষ করা হয়। প্রতিটি বাড়িতেই দুই থেকে চারটা হলেও চুইঝালের গাছ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, চারা রোপণের মাত্র দুই বছরে বিক্রির উপযোগী হয় চুইঝাল গাছ। আকার ভেদে একটি গাছ ৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। চুইঝাল চাষ করার জন্য আলাদাভাবে কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। সার, কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক কোনো ধরনের স্প্রে করতে হয় না। বলা যায় বিনা খরচেই চুইঝাল চাষ হয়। একবার একটি গাছে চুইঝাল বড় হলে কয়েকবার সেটা থেকে চুইঝাল কাটা যায়। এর শেকড় যত বাড়তে থাকে লতা ও কাণ্ড তত মোটা হতে থাকে।
এ সময় কথা হয় মদাতি ইউনিয়নের বাবুরহাট এলাকার চুইঝাল চাষি মো. মনিরুজ্জামানে সঙ্গে। তিনি জানান, এ বছর বাড়ির সুপারি ও আম কাঁঠালের ৩০ টি গাছে চুইঝাল রোপণ করেছেন। বিনাখরচে তিন বছর পর এই গাছগুলো তিনি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বিক্রির প্রত্যাশা করছেন।
ভোটমারী ফেডারেশন এলাকার আরেক কৃষক প্রদীপ কুমার বাড়ির ১৫০টি সুপারি ও আম-কাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছে চুইঝাল রোপণ করেছেন। ২ বছর পর এর থেকে অনেক বড় অঙ্কের টাকা আয় করার প্রত্যাশা তার।
সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের সাদেকনগর গ্রামের চুই চাষি আব্দুল জলিল জানান, আমি ১৫ বছর আগে আমার বসত বাড়ির সুপারি গাছ ও আম গাছে চুইগাছ লাগিয়েছি। এখন প্রতিটি গাছ থেকে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার চুইঝাল বিক্রি করেছি। বাড়ি থেকেও বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা এসে নিয়ে যায়।
কৃষি বিভাগের হিসেব মতে, লালমনিরহাট জেলায় ৪৭০ বিঘা জমিতে ২৬ হাজার চুইঝাল গাছ রয়েছে। চারা লাগানোর ২/৩ বছরেই চুইঝাল অনেক টাকায় বিক্রি করা যায়।
জানা গেছে, চুইঝাল কেনাবেচার সঙ্গে জেলার প্রায় ৫০০টি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুইঝাল গাছ সংগ্রহ করে জেলা ও উপজেলার ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন।
জেলায় চুইঝালের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে চুইঝাল সংগ্রহ করে আড়ৎদারের কাছে বিক্রি করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আড়ৎদাররা আবার সেগুলো সংগ্রহ করেন। এভাবে প্রতিবছর জেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকার চুইঝালের কেনা-বেচা চলে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার তুষার কান্তি রায় বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে চুইঝাল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে। বিনামূল্যে ও অতিরিক্ত জমি ছাড়াই চুইঝাল চাষ হওয়ায় দিন দিন এর চাষ বাড়ছে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইখুল আরিফিন বলেন, জেলা কৃষি বিভাগ লাভজনক এ উদ্ভিদটি চাষে কৃষকদের উৎসাহ, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছে।