বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৯

২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি সংকট সমাধানে কাজ করছে সরকার : অমিত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ফাইল ছবি

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : বিদ্যমান জ্বালানি সংকট ২০৩০ সালের মধ্যে সমাধানে সরকার দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

আজ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে উত্থাপিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় দ্রুত প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকট কমাতে চলতি সপ্তাহ থেকেই ৬৬০ মেগাওয়াটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ সপ্তাহ থেকে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ প্রযোজ্য হবে না।

গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে বছরে গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রতি বছর গ্যাসের চাহিদা ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। ফলে বর্তমানে ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১২ সালের ১৪ মার্চ মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিজয়ের পরও আগের সরকারগুলো এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৪ মে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর আওতায় ২৬টি অফশোর ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি গভীর সমুদ্র ও ১১টি অগভীর সমুদ্রের ব্লক রয়েছে। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত দরপত্র প্রক্রিয়া চলবে। পাশাপাশি নতুন অনশোর বিডিং রাউন্ড চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করতে বিদ্যমান পাঁচটি ড্রিলিং রিগের পাশাপাশি আরও দুটি রিগ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, অনুসন্ধান সম্প্রসারণ, কূপ খনন, সিসমিক জরিপ ও অফশোর বিডিংয়ের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপের ড্রিলিং ও ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি কূপের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, আরও আটটিতে ড্রিলিং চলছে এবং অবশিষ্ট কূপগুলোর প্রস্তুতি ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত দেশের একমাত্র অপরিশোধিত তেল পরিশোধনাগারটির সক্ষমতা বাড়াতে আগের কোনো সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালু করা হবে।

দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা বর্তমান ১৫ লাখ টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত হবে। সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) এ আধুনিকায়ন প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন করবে। গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও আইডিবির মধ্যে ‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছাদ ও ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের শুল্কমুক্ত নীতিগত সহায়তা নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিপ্লব ঘটাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জ্বালানি তেলের মূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পর অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে চোরাচালান কমাতে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সমন্বিত জ্বালানি মূল্য ব্যবস্থার আওতায় সরকারকে ২৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগের সরকারের আমলে নেওয়া আমদানিনির্ভর নীতির পরিবর্তে জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে।

এর আগে আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই নীতি গ্রহণ করতে হবে। তিনি সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী ও কার্যকর জ্বালানি সেল গঠনের আহ্বান জানান।

আলোচনায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং পাবনা-১ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য নাজিবুর রহমানও অংশ নেন।