বাসস
  ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:০২

পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি

সংসদ ভবন, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রেক্ষাপটে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং মাতৃ ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের (কিশোরগঞ্জ-২) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য উপস্থাপন করেন।

মন্ত্রী জানান, বিগত তিন বছর যাবৎ বৈশ্বিক ও স্থানীয় সরবরাহ ঘাটতির কারণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে বিনামূল্যে প্রদেয় গর্ভনিরোধক সামগ্রী, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, “আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই সারা দেশে গর্ভনিরোধক সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের পর্যাপ্ত সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় গর্ভনিরোধক সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের সকল আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সংগৃহীত সামগ্রী দ্রুততম সময়ে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিতে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের রাজনৈতিক রূপরেখা, জাতীয় জনসংখ্যা নীতি এবং আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুগোপযোগী স্বাস্থ্য কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সেবার মানোন্নয়ন এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের (ডিজিএফপি) সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য এবং পুষ্টিসেবা প্রদান করা হচ্ছে। গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা, বিশেষায়িত কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, ডিজিএফপির অধীন ঢাকার তিনটি বিশেষায়িত হাসপাতাল- আজিমপুর মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এমসিএইচটিআই), মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (এমএফএসটিসি) এবং মিরপুর মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ছাড়াও জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন স্তরের মাতৃ ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (এমসিডব্লিউসি), ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, বাড়ি বাড়ি ডোর-টু-ডোর পরিদর্শকদের উপস্থিতি, স্যাটেলাইট ক্লিনিক এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এসব সেবা সম্প্রসারিত হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বাল্যবিবাহ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক গর্ভধারণ প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ‘স্কুল স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম’ পরিচালনা করছে সরকার।

পরিবার পরিকল্পনা খাতে দীর্ঘদিনের জনবল সংকটের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব খাতের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে এন্ট্রি লেভেলে মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) পদে মোট অনুমোদিত পদ ১ হাজার ৫৪৯টি, যার মধ্যে বর্তমানে ৮০৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব শূন্য পদে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়নের লক্ষ্যে ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে যথাক্রমে ৪৪১, ৪৯, ১৩৮ ও ৪৮ জন অর্থাৎ মোট ৬৭৬ জন মেডিকেল অফিসার সুপারিশের জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (বিপিএসসি) প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিভিন্ন গ্রেডে প্রয়োজনীয় জনবলের নতুন চাহিদা নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে এবং বিদ্যমান অন্যান্য শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগের প্রশাসনিক ছাড়পত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) পদে ১ হাজার ৮০ জনের আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পদটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একাধিক মামলা প্রক্রিয়াধীন ছিল। যার মধ্যে তিনটি মামলা নিষ্পত্তি হলেও একটি সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (নম্বর ৩/২৬) বর্তমানে বিচারাধীন। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকেই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রস্তাবিত ‘পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নন-ক্যাডার কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৪’ চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই দেশের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) এবং ফার্মাসিস্টদের শূন্য পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবার পরিকল্পনা সেবা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং মাতৃ, শিশু ও প্রজনন স্বাস্থ্যের সামগ্রিক সুচকগুলোর দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।