বাসস
  ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫০

স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনে ই-হেলথ কার্ড প্রকল্প চালু করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি

সংসদ ভবন, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): দেশের সর্বস্তরের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন নিশ্চিত করা এবং রোগীদের ব্যক্তিগত চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, “সারা দেশে স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন ও বৈপ্লবিক আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।”

আজ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, দেশের মোট ৬টি জেলায় (খুলনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নোয়াখালী, ঝালকাঠি ও নরসিংদী) প্রাথমিক ই-হেলথ কার্ড চালু এবং স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল অটোমেশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘প্রজেক্ট রেডিনেস অ্যাক্টিভিটিজ অ্যান্ড পাইলটিং ফর হেলথ সেক্টর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প প্রস্তাব বর্তমানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে চূড়ান্ত পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, একটি একক ও কেন্দ্রীয় ‘ডিজিটাল হেলথ ডাটাবেজ’ তৈরির মাধ্যমে এই ই-হেলথ কার্ডের অধীনে প্রতিটি রোগীর পূর্ববর্তী রোগব্যাধির বিবরণ, ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার রিপোর্ট ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য নিরাপদ ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে কোনো রোগী নতুন কোনো হাসপাতালে গেলে বা অন্য চিকিৎসকের কাছে স্থানান্তর হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক খুব সহজেই নিরাপদ ‘ইন্টার-অপারেবিলিটি’ সুবিধার মাধ্যমে ওই রোগীর পূর্বতন স্বাস্থ্যের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এতে অপ্রয়োজনীয় বা একই পরীক্ষা বারবার করার ভোগান্তি ও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ থেকে রোগীরা মুক্তি পাবেন।

নির্ধারিত জেলাগুলোতে পাইলটিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর দেশব্যাপী অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সংযোজন নিশ্চিত সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড ও সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড (ঊঐজ) সেবা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।