শিরোনাম

সংসদ ভবন, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা প্রদানে দীর্ঘদিনের জট নিরসনে সরকার কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং দ্রুত অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করতে একাধিক লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এটি সমাধানে ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদে রংপুর-১ আসনের বিরোধী দলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে মোট ৮০ হাজার ৩২০টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, যার বিপরীতে আনুমানিক ৯ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে প্রায় ৫৯ হাজার ৮২০টি আবেদন এখনো নিষ্পত্তিহীন, যার জন্য প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা প্রয়োজন।’
চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রায় ২০ হাজার ৫০০টি আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এজন্য ২ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বাকি অর্থ দিয়ে আরো প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ জন উপকারভোগীকে অর্থ প্রদান করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়মিতভাবে কল্যাণ ভাতা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
এই ট্রাস্টের মূল অর্থায়ন আসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের ৪ শতাংশ চাঁদা থেকে। তবে, এর বার্ষিক আয় প্রায় ৬৬০ কোটি টাকা হলেও ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা, ফলে বছরে প্রায় ১৮০ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, এই অর্থসংকট দূর করতে এবং সুবিধা প্রদানের গতি বাড়াতে সরকার কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে—কল্যাণ ট্রাস্টে বরাদ্দ বৃদ্ধি, জাতীয় বাজেট থেকে বছরে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার বিষয় বিবেচনা এবং নিজস্ব ভবন ও শিক্ষা কমপ্লেক্স নির্মাণের মাধ্যমে ট্রাস্টকে আয়-উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পরিকল্পনা।
এ ছাড়া, ট্রাস্টকে করমুক্ত সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৮ সাল থেকে অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই প্রক্রিয়াটি ইবাইস ++ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ভাতা ও অবসর সুবিধা সময়মতো প্রদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।