বাসস
  ০১ মে ২০২৬, ০১:০৬

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব সংসদে গৃহীত

ছবি: পিএমও

সংসদ ভবন, ৩০ এপ্রিল, ২০২২ (বাসস) : রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব আজ সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

গত ১২ মার্চ সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি এ ভাষণ দেন। রীতি অনুযায়ী, এ ভাষণ সম্পর্কে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। 

প্রস্তাবটি সমর্থন করেন সরকারি দলের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। পরবর্তীতে কার্য-উপদেষ্টা কমিটি ওই ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনার ২৫তম এবং প্রথম অধিবেশনের সমাপনী দিনে আজ আলোচনায় অংশ নেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিরোধী দলের উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের মতো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এত বড় অবদান অন্য কোনো পরিবারের নেই।

তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের বাইরে দেশের এমন কোনো পরিবারের নাম আমরা জানি না, যারা একটি সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এত বড় অবদান রেখেছে।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সংবিধানের গুরুত্ব তুলে ধরে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, এটি জাতির আবেগ এবং ৩০ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, সংবিধানের অনেক অনুচ্ছেদ ও অধ্যায় বারবার পরিবর্তিত হলেও এই সংবিধানের জন্য আমরা সংগ্রাম ও লড়াই করেছি।

বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধী দলের অনেকেই বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী বলছেন। আমরাই সংস্কারের পথপ্রদর্শক।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে বিরোধীদের মন্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের রক্ষক এবং একটি প্রতিষ্ঠান। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এই পদটির মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে এবং তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সুসংগঠিত করেছিলেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে দেশ সঠিক অবস্থানে ছিল না— এটি উপলব্ধি করার জন্য রাষ্ট্রপতি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমও তুলে ধরেছেন।

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার সমালোচনা করে সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যখন ফ্যাসিস্ট শাসনামলে কারাবন্দি ছিলেন, তখন দলটি কোনো প্রতিবাদ করেনি। তবে বেগম জিয়া মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতাদের ফাঁসির প্রতিবাদ করেছিলেন এবং তাদের ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছিলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান সরকারকে শরীফ ওসমান হাদিসহ সকল হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে আহ্বান জানান।