বাসস
  ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১৯
আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৩৩

২২ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে ১ কোটি ১৪ লাখ শ্রমিক প্রেরণ করা হয়েছে

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদ ভবন, ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): গত ২২ বছরে (২০০৪ থেকে ৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে মোট ১ কোটি ১৪ লাখের বেশি শ্রমিক প্রেরণ করা হয়েছে।

আজ সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বগুড়া-৪ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এ তথ্য উপস্থাপন করেন।

এর আগে আজ বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে মোট ১ কোটি ১৪ লাখ ৭ হাজার ৬৬১ জন শ্রমিক পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে সর্বাধিক ৫৩ লাখ ৩৩ হাজার ২২৩ জন শ্রমিক গেছেন সৌদি আরবে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২১ লাখ ৯২ হাজার ৯৫৬ জন, ওমানে ১৬ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৯ জন, কাতারে ১০ লাখ ৫ হাজার ৯৩৬ জন, কুয়েতে ৪ লাখ ১ হাজার ৯৪২ জন, বাহরাইনে ৩ লাখ ৯ হাজার ২৩৩ জন, জর্ডানে ২ হাজার ৪৫ হাজার ২০৮ জন, লেবাননে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯২ জন, ইরাকে ৮৫ হাজার ১৭৬ জন, ইয়েমেনে ৪ হাজার ৪০ জন, সিরিয়ায় ৮৭৯ জন এবং ইরানে ১৮৬ জন শ্রমিক পাঠানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদের আরেকটি তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।

তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে বিকল্প শ্রমবাজার চিহ্নিত

বাগেরহাট-৪ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেশ কিছু দেশকে বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, সাইপ্রাস, ফিজি, সার্বিয়া, ইতালি, রোমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশকে বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।'

ঢাকা-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত উন্নয়নের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও বন্ধ বাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকার ইতোমধ্যে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানে কাজ করছে।'

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিভিন্ন উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।

এই পদক্ষেপগুলোর অংশ হিসেবে বর্তমানে কম্বোডিয়া, সিশেলস, সার্বিয়া, ফিজি, রোমানিয়া, মেসিডোনিয়া, মরিশাস, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। 

মন্ত্রী আরও জানান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সহজ করতে বাংলাদেশ ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় আরও চারটি দেশের সঙ্গে এমওইউ, এমওসি বা চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের পর মালয়েশিয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার এবং সাম্প্রতিক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার পর এ বাজারটি দ্রুত পুনরায় চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, সংঘাতপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে কূটনৈতিকভাবে কাজ করছে সরকার।

মন্ত্রী জানান, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিএমইটির অধীনে ১০৪টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এবং ৬টি মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট (আইএমটি) ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য আগ্রহীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে জাপানি, কোরিয়ান, ইংরেজি, চীনা, আরবি, ইতালীয় ও জার্মান ভাষায় স্থানীয় প্রশিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নোয়াখালী-৬ আসনের এনসিপি সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারীসহ মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন শ্রমিক বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন।