বাসস
  ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১৬

এক বছরের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে: পরিবেশ মন্ত্রী

সংসদ ভবন, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের উন্নতি নদী, খালসহ অন্যান্য জলাশয়কে দূষণ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে।

মন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সরকার নতুন হলেও আমরা এ বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। আশা করি, আগামী এক বছরের মধ্যেই নদী, খাল ও বিলের দূষণ রোধে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।'

আজ জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধির অধীনে গাজীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য এস এম রফিকুল ইসলামের উত্থাপিত নোটিশের পর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দূষণ শুধু শিল্প কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; বিভিন্ন উপায়ে এটি ঘটে এবং দেশের সামগ্রিক পরিবেশ দূষণে অবদান রাখে।

তিনি জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমিনবাজারে একটি বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়াও দেশের প্রতিটি শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন। 

মন্ত্রী আরও বলেন, কারখানায় ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন নিশ্চিত করে নদী, খাল ও জলাভূমির দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, 'একই সঙ্গে আমরা বেসরকারি খাতকে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করছি, যাতে কঠিন বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে তা থেকে জ্বালানি বা জৈব সার উৎপাদন করা যায়।'

বিএনপির সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে আরো উল্লেখ করেন, পরিবেশ দূষণ শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয়, বরং কৃষি উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে এবং ফসল ও উদ্ভিদের ক্ষতি করছে।

তিনি বলেন, অপরিশোধিত তরল বর্জ্য খাল ও জলাভূমিতে ফেলা হচ্ছে, যা নলকূপের মাধ্যমে ব্যবহৃত ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করছে এবং ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করছে।

এর আগে, নোটিশে ওই সংসদ সদস্য গাজীপুর-৩ এলাকায় শিল্প বর্জ্যের উদ্বেগজনক দূষণের প্রেক্ষাপটে পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, গাজীপুর-৩ এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রপ্রাপ্ত মোট ৮৭৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১২৯টি শিল্প কারখানা তরল বর্জ্য নির্গমন করে।

তিনি বলেন, 'এই সব প্রতিষ্ঠানেই বর্জ্য নির্গমনের আগে বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) রয়েছে।' পাশাপাশি, অপরিশোধিত বর্জ্য যাতে সরাসরি জলাশয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে সরেজমিনে ও অনলাইনে তদারকি করছে।

তিনি আরও জানান, তরল বর্জ্য নির্গমনকারী ১২৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২১টিতে ইতোমধ্যে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং বাকি ৮টিতে স্থাপনের কাজ চলছে।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, এছাড়া, এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে ‘জিরো ডিসচার্জ’ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।