বাসস
  ৩১ মার্চ ২০২৬, ২০:০৬

জুলাই সনদ ও সংবিধান দুটোকেই সম্মান করা উচিত : আন্দালিব পার্থ

আজ সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ ধারায় জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদ ভবন, ৩১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, সংবিধান এবং জুলাই সনদ—দুটোকেই সমানভাবে সম্মান করা উচিত। কেউ যদি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে তিনি তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলবেন বলে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, সংবিধান পরিবর্তন করা যেতে পারে, তবে সেটিকে পুরোপুরি বাতিল বা ছুড়ে ফেলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তিনি আজ সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ ধারায় জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫) সংসদে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ (আদেশ নং ০১, ২০২৫) এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান প্রসঙ্গে' তিনি সংসদে নোটিশ আকারে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পার্থ বলেন, 'সংবিধানটাকেও আমরা রেসপেক্ট করি, জুলাই সনদকেও আমরা রেসপেক্ট করি। যদি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়ায়, আমি তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলব, ইনশাআল্লাহ।'

তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, 'আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম—উভয়েই একই দিনে শহীদ হয়েছেন এবং তাদের অবদান কারও চেয়ে কম নয়। জুলাই বিপ্লবকে আমরা শ্রদ্ধা করি। গত ১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি।'

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেকোনো সমালোচনাকে ‘যুদ্ধাপরাধের বিচারবিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করা হতো। বর্তমানে একই ধরনের মনোভাব দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পার্থ বলেন, ''We have no problem with July. আমাদের সমস্যা প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় এগোতে চান, সেটাই প্রশ্ন।'

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই বিপ্লবী পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল, তাহলে কেন তখন একটি রেভুলুশনারি সরকার গঠন করা হয়নি। আপনারা চাইলে ট্রানজিশনাল রেভুলুশনারি সরকার করে সংবিধান পুনর্লিখন করতে পারতেন। কিন্তু পুরনো সংবিধানের ভেতর থেকেই সেটিকে বাতিল করার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়।'

পার্থ আরও বলেন, সংসদে উপস্থিত অনেকেই জুলাই আন্দোলনের অংশ ছিলেন এবং বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন। তবে সুযোগ পেলেই একে অপরকে আক্রমণ করা হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।

তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী, এলজিআরডি মন্ত্রীসহ আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে সংগ্রামের অংশ। কিন্তু যখন ফ্লোর আপনাদের হাতে যায়, তখন আমাদের অবদান অস্বীকার করা হয়—এটা ঠিক নয়।'

তিনি সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।