শিরোনাম

নওগাঁ, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও গণভোট-২০২৬ ইং উপলক্ষে নওগাঁর-৬টি আসনের ৭৮২টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। ইসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী আজ সকাল থেকে ব্যালট পেপার বিতরণের কার্যক্রম শুরু করেন জেলার ১১টি উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রিজাইডিং অফিসারদের হাতে ব্যালট পেপার পৌঁছে দিয়েছেন সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা। এরপর পুলিশ ও আনসার বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতায় তারা নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে নিয়ে গেছেন।
এভাবে জেলার ৭৮২টি ভোট কেন্দ্রের জন্য ব্যালট পেপার ১১টি উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারের হাতে ব্যালট বুঝিয়ে দেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ।
এরআগে সকাল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট বাক্সসহ ভোট গ্রহণের অন্যান্য সামগ্রী পাঠানো শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নিজ নিজ অফিস থেকে এসব সামগ্রী কেন্দ্র সমূহের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসার তার কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার পোলিং অফিসার এবং আনসার বাহিনীর সদস্যদের সাথে নিয়ে নির্দিষ্ট কেন্দ্র সমূহে গিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তাই কে যাবে সংসদে, কে পরবে জয়ের মালা? সেটা নির্ধারণ করবেন ভোটাররা।
নওগাঁর ৬টি আসনে ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এরমধ্যে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের দলীয় প্রার্থী আছে ২৭জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে ৫ জন।
আসন ভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী :
নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনের প্রার্থীরা হলেন-বিএনপি’র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম (দাঁড়ি পাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল হক শাহ (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) এবং বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য ও সদ্য বহিস্কৃত ডা. ছালেক চৌধুরী (মোটরসাইকেল)। ছালেক চৌধুরী হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়ায় এখানে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে অনেকে বলছেন।
নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনের বিএনপি’র প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর এনামুল হক (দাঁড়ি পাল্লা) ও এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম (ঈগল) প্রতীক। এখানে মূলত দ্বি-মূখী লড়াই হবে।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের বিএনপি’র ফজলে হুদা বাবুল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মাহফুজুর রহমান (দাঁড়ি পাল্লা), জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল), বাসদের কালিপদ সরকার (মই), বিএনএফ'র আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (টেলিভিশন) এবং ইসলামী আন্দোলনের নাসির বিন আসগর (হাত পাখা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি’র সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি কলস প্রতীক ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন জাহাজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।
এখানে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি ও সাদ্দাম হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামী মাহফুজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের নাসির বিন আসগর প্রার্থী থাকায় এখানেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ থাকায় সুবিধাজনকস্থানে রয়েছেন ফজলে হুদা বাবুল।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের প্রার্থীরা হলেন- ইকরামুল বারী টিপু (বিএনপি), আব্দুর রাকিব (জামায়াত), জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) ও সিপিবি’র ডা. এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম কলস প্রতীক। এখানে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের প্রার্থীরা হলেন-জাহিদুল ইসলাম ধলু (বিএনপি), আবু সাদাত মো. সায়েম (জামায়াত), সিপিবি’র শফিকুল ইসলাম (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রহমান (হাতপাখা) এবং জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীক। এখানে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনের প্রার্থীরা হলেন-শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামীর খবিরুল ইসলাম (দাঁড়ি পাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। এই আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে ত্রিমুখী।
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় ও গণভোট নির্বাচন উপলক্ষে নওগাঁ জেলা পুলিশ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ৭৮২টি ভোট কেন্দ্রের মাধ্যমে নওগাঁর ৬টি আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ৩৬৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়েছে। সে সব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুুলিশ মোতায়েন করা হবে। সেই সাথে বডিঅর্ন ক্যামেরা থাকবে। নওগাঁ জেলায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়ন করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের সাথে আছে সহস্রাধিক সেনাবাহিনী, ৫ শতাধিক বিজিবি এবং আনসার বাহিনীর সদস্য। কাঙ্খিত এই নির্বাচনকে ঘিরে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিলে নওগাঁ জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কাজেই কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই আপনারা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে উৎসবমূখর পরিবেশে আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপনার নিরাপত্তায় তৎপর আছে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল সাইলাম বলেন, আনন্দ ও উৎসবমূখর পরিবেশে নির্বাচন করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। ভোটারদের উৎসাহ দিতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনি মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। এছাড়াও প্রত্যেক এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি নির্বাচনী মাঠে কাজ করবে। আগামীকাল একটি সুষ্ঠ, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ, ৬টি আসনে ৭৮২টি কেন্দ্রে মোট ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন ও নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ ২১ জন। এই ৬টি আসনে সংখ্যালঘু ভোটার আছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার জন। যা মোট ভোটারের ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ।