শিরোনাম

।। মুহাম্মদ আমিনুল হক।।
সুনামগঞ্জ, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনটি ভাটির জনপদ হিসেবে খ্যাত। অবেহেলিত এই জনপদে রয়েছে ২ টি উপজেলা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে কে হচ্ছেন কান্ডারী, এ নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে চলছে ব্যাপক আলোচনা। হাটে-বাজারে, চায়ের দোকানে, মাঠে ঘাটে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর লোকজন তাদের প্রিয় মানুষটিকে এই আসনে জেতানোর জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।
সাধারণ ভোটারদের সাথে আলোচনাকালে তারা জানান, আমাদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক নাছির চৌধুরী। আমরা দল বুঝি না, নাছির চৌধুরীকে বুঝি। ভোটারদের ধারণা নাছির চৌধুরী বিজয় লাভ করলে তিনি সুস্থ হয়ে জনসাধারণকে সাথে নিয়ে এ আসনের উন্নয়নমূলক কাজ করবেন।
নাছির উদ্দিন চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতায় নুইয়ে পড়লেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে তিনি। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে।
নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাবা দিরাই উপজলোর কুলঞ্জ গ্রামের গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। নাছির চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধসহ সকল সংকটকালীন মুহুর্তে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। তিনি চারবার এমপি ও দুইবার উপজলো পরিষদ নির্বাচন করেছেন।
নাছির চৌধুরী নির্বাচন বিষয়ে বাসসকে বলেন, আমি কখনোই নির্বাচনী পরবিশে নষ্ট করার মত কোন কাজ করিনি। মানুষের ভালোবাসা নিয়েই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি অসুস্থ হলেও হাজার হাজার নেতাকর্মীর ভালবাসায় আমি সিক্ত। আমি আশা করি মানুষের দোয়ায় আল্লাহ আমাকে সুস্থ করবেন।
৫০ বছররেও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা নাছির উদ্দিন চৌধুরী ২০১৫-২০১৭ ইং পর্যন্ত জেলা বিএনপির আহবায়ক ছিলেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন করছেন।
নাছির চৌধুরীর পিতা মৃত. মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী এবং মাতার মৃত. আফতারুন নেছা খানম। ১৯৬৬ সালে নাছির চৌধুরী সিলেট এমসি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি, ১৯৬৮ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি কলজে ছাত্র সংসদরে জিএস এবং ১৯৭০ সালে মৌলভীবাজার সরকারি কলজে ছাত্র সংসদরে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন। ১৯৮৫ ও ১৯৮৯ সালে দুইবার দিরাই উপজলো পরষিদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এছাড়াও ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হয়ে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তকে হারিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এরপর ২০০১ সালে প্রথম ও ২০০৮ সালে দ্বিতীয় এবং ২০১৮ সালে তৃতীয় বাররে মতো বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রতদ্বন্ধিতা করেন নাছির উদ্দিন চৌধুরী। প্রথম দুইবার অর্থাৎ ২০০১ ও ২০০৮ সালরে নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের কাছে পরাজিত হন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রবীণ নেতা নাছির উদ্দিন চৌধুরী প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) উপজেলা নিয়ে গঠিত। অবেহেলিত এই জনপদে রয়েছে ২ টি উপজেলা। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার ৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার, ১ লাখ ৫৪ হাজর ৬৫২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৯ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন।