শিরোনাম

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ঢাকা-১৩ আসনে রিকশাই এগারো দলের প্রতীক এবং জনগণের প্রতীক। এটি জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, তরুণ প্রজন্ম ও নারী সমাজের প্রতীক এবং আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক।
তিনি ভোটারদের রিকশা মার্কায় ভোট দিয়ে আল্লামা মামুনুল হককে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
তিনি ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হকের ‘রিকশা’ প্রতীকের পক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
আজ সোমবার মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এই নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা-১৩ নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হুসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের শুরা সদস্য শাফিউর রহমান, এনসিপি'র যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হোসাইন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিনহাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা তাওহীদুজ্জামান, ঢাকা-১৩ আসনের এগারো দলীয় লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়ক মুফতি আশরাফুজ্জামান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোহাম্মদপুর থানা শাখার নায়েবে সদর মিজানুর রহমানসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং রিকশা মার্কাকে বিজয়ী করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর রহমত ও জনগণের ভালোবাসায় ১১ দল বিজয়ী হলে ঢাকা-১৩ আসনবাসী একজন সাহসী, নীতিবান ও মর্যাদাবান অভিভাবক পাবে।
সমাবেশে ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, ‘ঢাকা-১৩ আসনে আপনারা আমাকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠালে আমি সেখানে কোরআনের কথা বলার চেষ্টা করব। আমি নির্বাচিত হলে আর কোনো মায়ের সন্তানকে মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংস হতে দেব না। আপনাদের একটি মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত ঢাকা-১৩ আসন উপহার দেব।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সারাদেশের মতো ঢাকা-১৩ আসনেও ১১ দলের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মোহাম্মদপুরবাসী যেমন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, আগামী ১২ তারিখেও রিকশা মার্কায় ভোট দিয়ে মামুনুল হককে বিজয়ী করে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তারা ১১ দলকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।
নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ার করে তিনি আরও বলেন, ‘ইলেকশন কমিশন বলেছে, ভোট কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নাকি মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। ইলেকশন কমিশন কোন জায়গা থেকে এই আইন প্রণয়ন করেছে আমরা জানিনা। কার প্লান অনুযায়ী ইলেকশন কমিশন কাজ করছে তা জনগণের সামনে স্পষ্ট হচ্ছে। আমরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছি, আজকে সন্ধ্যার মধ্যে দিনের আলো থাকতে থাকতে এই আইন পরিবর্তন করতে হবে। ইলেকশনের দ্বারপ্রান্তে এসে মিডিয়া ব্ল্যাকআউট করার এই আইন বরদাশত করা হবে না।’
আরেক বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, আল্লামা মামুনুল হককে বিপুল ভোটে রিকশা মার্কায় বিজয়ী করতে হবে। রিকশা ও ১১ দলের গণজোয়ার দেখে অনেকে পেছনের দরজা দিয়ে সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তরুণ সমাজকে আগামী ১২ তারিখ ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে সব ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারচুপি রুখে দিতে হবে।
সমাবেশ শেষে আল্লামা মামুনুল হকের নেতৃত্বে একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি মোহাম্মদপুর ঈদগাহ মসজিদ এলাকা থেকে শুরু হয়ে এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।