শিরোনাম

গোপালগঞ্জ, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামীর প্রজন্মের জন্য পারস্পরিক হিংসামুক্ত ও ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার গোপালগঞ্জ-১ আসন (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
বৈষম্যহীন ও সহিংসতামুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াত আমির জানান, চব্বিশের আগস্টের ৫ তারিখের পর তারা সব ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, আশ্বস্ত করেছেন এবং সাহস জুগিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এ দেশে সবাই সমান নাগরিক এবং সবার অধিকার সমান।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১২ তারিখে দুইটা ভোট- একটা ‘হ্যাঁ’, একটা ‘না’। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামী। ১২ তারিখ শক্ত হাতে প্রথম ভোটটা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষেই বসাবো।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ধোঁকাবাজি, ব্যাংক ডাকাতি কিংবা শেয়ারবাজার লুটপাটের রাজনীতি আমরা করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি দেশের মালিক হওয়ার জন্য নয়, দেশের সেবক হওয়ার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, দোষারোপ, তোষামদি, ধোঁকা, মিথ্যাবাদী ও ফ্যাসিবাদী কায়দার রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে।
ফেব্রুয়ারীর ১২ তারিখ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অতীতের দুঃখ-দুর্দশার রাজনীতির কবর রচিত হয়ে নতুন রাজনীতির সূর্য উদিত হওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।
সমাবেশে প্রতীকীভাবে প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেওয়া হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে ঢাকায় ফেরার পথে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর বাসস্ট্যান্ডে এক পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, অতীতে আমাদের সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমরা তা দলের পক্ষ থেকে মাফ করে দিয়েছি। আমরা আমাদের কথা রেখেছি।
জামায়াত আমিরের আগমনকে কেন্দ্র করে বাসস্ট্যান্ড মোড় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়।
উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জ-১ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্লাসহ মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।