শিরোনাম

খুলনা, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সব মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সড়ক থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ লড়াই প্রয়োজন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মহানগরী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সার্কিট হাউজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন স্থানে দলের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
তিনি বলেন, মায়েদের সম্মান করতে শিখতে হবে। গায়ে হাত তুলে কিংবা সহিংস আচরণের মাধ্যমে সম্মান আদায় করা যায় না।
তিনি ভোটারদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে নিরাপদভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লাসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহ রব্বুল আলামিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশকে একটি ফ্যাসিবাদী শক্তির কবল থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি ২০২৬ সালের পল্টনের লগি-বৈঠার ঘটনার নিহতদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে মামা-খালু নির্ভরতা চলবে না; যোগ্য ব্যক্তিদেরই উপযুক্ত স্থানে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে রাজনৈতিক নির্যাতনের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় দেশবাসী জামায়াতের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ব্যাংক, বীমা ও শেয়ারবাজারে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে বহু মানুষ নিঃস্ব হয়েছে, যা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
২৪ পরবর্তী প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতিশোধ বা চাঁদাবাজির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি জামায়াত রক্ষা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
যুব সমাজ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বেকার ভাতা নয়, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তরুণদের সম্মানিত করা হবে। একই সঙ্গে নতুন বাংলাদেশে মা-বোনেরা পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।
খুলনার শিল্প পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এক সময় খুলনা ছিল শিল্প ও কৃষিতে সমৃদ্ধ অঞ্চল এবং শিল্পের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে শিল্পকারখানা বাড়লেও খুলনায় তা কমে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে শিল্প পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মরহুম মতিউর রহমান নিজামী শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে শিল্প প্রতিষ্ঠান সচল রাখার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি। বন্ধ কলকারখানা চালু ও নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশ্বাসও দেন জামায়াত আমির।
জনসভার শেষ পর্যায়ে তিনি স্লোগান দেন- ‘হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী; প্রথম হ্যাঁ, এরপর ভোট ইনসাফের পক্ষে।’
এ সময় তিনি খুলনার পাঁচটি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং একটি আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থীর হাতে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক তুলে দেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী আমীর, খুলনা-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জনসভা প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
খুলনা অঞ্চলের রাজনৈতিক দলসমূহের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিপুলসংখ্যক জনসাধারণ জনসভায় উপস্থিত ছিলেন। কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করে প্রেরণা সাহিত্য সংসদ ও টাইফুন শিল্পী গোষ্ঠী।