বাসস
  ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২৫

বাবুল মৃধার মৃত্যু: হাসিনা-কাদেরসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের । ছবি : কোলাজ বাসস

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজমিস্ত্রী বাবুল মৃধা আন্দোলন চলাকালে তার ছেলেকে খুঁজতে ঘর থেকে বের হয়ে গুলিবিদ্ধ হন। 

গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা সিএমএইচ-এ মারা যান বাবুল মৃধা। এ ঘটনায় করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

আজ যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান ইরফান গত ১৩ আগস্ট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

চার্জশিটভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা ও মহিউদ্দিন মহারাজ, পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাবুল মৃধা চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া তার কলেজ পড়ুয়া বড় ছেলে আবু তালেবকে খুঁজতে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন । 

এ সময় যাত্রাবাড়ী লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পিঠে গুলিবিদ্ধ হন বাবুল মৃধা। পরে পথচারীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পর তাকে বিজিবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে গত ২২ আগস্ট নেওয়া হয় সিএমএইচ হাসপাতালে। 

গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা সিএমএইচ-এ মারা যান মো. বাবুল মৃধা।  এ ঘটনায় তার স্ত্রী সীমা বেগম ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।