বাসস
  ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৭

হাদি হত্যা মামলায় ফয়সালসহ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণের শুনানি ১৫ জানুয়ারি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান। ফাইল ছবি

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিট গ্রহণের বিষয় শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই দিন ধার্য করেন। আজ মামলার চার্জশিট গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের আদালতে উপস্থিত হয়ে আইনজীবী নিয়োগ করেন। এরপর চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য মামলার বাদী আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেন। পরে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৫ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেন।

পল্টন থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রুকনুজ্জামান বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ, গত ১২ ডিসেম্বর বেলা আনুমানিক ২টা ২০মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদির ওপর দুষ্কৃতকারীরা গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এরপর গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ। 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর বেলা আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদিকে পিছন থেকে অনুসরণ করে আসা মোটরসাইকেলে থাকা আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদ ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামি ওসমান হাদিকে চলন্ত অবস্থায় হত্যার উদ্দেশ্য আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। 

আহত শরিফ ওসমান হাদিকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গত ৬ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। ১৭ আসামির মধ্যে ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছে আর বাকী ৬ জন পলাতক রয়েছেন। চার্জশিটে সাক্ষী করা হয় ৭৭ জনকে।

এ মামলার পলাতক আসামিরা হলেন- শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ, ফয়সালের সহযোগি আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার ও ফয়সলের বোন জেসমিন আক্তার।

কারাগারে আটক থাকা আসামিরা হলেন- ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিল বাপ্পির বোন জামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ ফয়সাল (ফয়সাল করিম মাসুদ নন)।