বাসস
  ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৯
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩২

সড়কে ঠিকাদারি কাজে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে : ড. শেখ মইনউদ্দিন

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন। ছবি : বাসস

।। মোশতাক আহমদ।।

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন বলেছেন, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরে ঠিকাদারি কাজে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট প্রথা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রকৃত ঠিকাদার সরকারি উন্নয়ন কাজে অংশ নিতে পারবে।

আজ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে দেখা গেছে, গুটি কয়েক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সারা দেশের সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উন্নয়ন কাজের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ পারসেন্ট একাই করত। কিন্তু এখন সেই সিন্ডিকেট প্রথা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী জানান, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের ঠিকাদারি কাজ প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তাতে কোনো ঠিকাদার আগেই বলতে পারবে না যে সে নিশ্চিতভাবে কাজ পেয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ২৮ নভেম্বর থেকে নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাতে সুনির্দিষ্ট করে ইনডেক্স দেওয়া আছে। যত বড় কোম্পানি টেন্ডারের অংশগ্রহণ করুক না কেন, ইনডেক্সে তাদের ওয়ার্ক অর্ডার নির্ধারণ করে দিবে। এখন একচেটিয়াভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির একাধিক কাজ পাওয়ার সুযোগ নেই। 

ড. শেখ মইনুদ্দিন বলেন, সড়কের ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ আনার পাশাপাশি আমরা সারা দেশের সেতু ও ফেরি পারাপার থেকে টোল আদায়ও একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির মধ্যে নিয়ে আসছি।

তিনি বলেন, এখন থেকে সমস্ত সেতুর টোল প্লাজায় স্বয়ংক্রিয় মেশিন বসানো থাকবে। প্রত্যেকটি গাড়িতেও সেই সফটওয়্যার এর সিম দেওয়া থাকবে। গাড়িগুলো টোল প্লাজা অতিক্রম করার সাথে সাথে সফটওয়্যার এর মাধ্যমে গাড়ির মালিকের বিকাশ অথবা অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হবে। তবে যদি গাড়ির মালিকের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা না থাকে তাহলে গাড়ি দাঁড়িয়ে যাবে।

ড. শেখ মইনুদ্দিন বলেন, হ্যাঁ অতীতে হয়ত কয়েকজনের হাতেই মোস্ট অব দ্য প্রজেক্ট আমাদের চলে গিয়েছিল। কিন্তু এখন আমরা কয়েকটা জিনিস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি সেটা হচ্ছে আমরা দেখার চেষ্টা করছি কার কাছে কাজ অনেক বেশি হয়ে গেছে। মানে খুব বেশি ধরনের কাজ যদি চলে যায় তখন আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে না দিয়ে অন্যদের মধ্যে কাজ বণ্টন করে দিতে। কারণ অনেক সময় দেখা যায় যে একজন হয়ত আট ১০ টি কাজ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনোটাই এগোতে পারছে না। তার আবার কাজের মানও খারাপ হওয়া শুরু করেছে, কারণ প্রত্যেকেরই তো একটা ক্যাপাসিটি থাকে তো আমরা চেষ্টা করছি ওইটাকে এভোয়েড করা।

তিনি বলেন, কারো যদি বেশি পরিমাণ কাজ অলরেডি চলে আসে হাতে, তাহলে চেষ্টা করছি অন্য মানুষকে নিয়ে আসার জন্য। এটাতে দুইটা লাভ, একটা হচ্ছে যে তাহলে হয়ত আমরা আরেকটু ডাইভার্সিফাই করতে পারবো আমাদের কন্সট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ সাত থেকে আট জনের হাতে পুরো জিনিসটা থাকবে না। আর দ্বিতীয় হচ্ছে একই সময়ে কাজের অগ্রগতিটাও একটু ভালো হওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, ঠিকাদারের বড় কাজটা কঠিন, কারণ বড় কাজের জন্য বড় কোম্পানি ছাড়া ছোট কোম্পানি তো এমনি করতে পারবে না। এদিকে ছোট কোম্পানিগুলোর ওই ক্যাপাসিটিটাই হয়ত থাকবে না।

তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশে আমাদের কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা খারাপ, ৫ আগস্টের পরে তা আরো কমে গেছে, তাই ওই জায়গায় হয়ত কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের ওই ছোটোখাটো কাজগুলো আমরা চেষ্টা করব যাতে করে অন্য মানুষ বা অন্য ইন্ডাস্ট্রি যদি আসে ওরা ওখান থেকে আস্তে আস্তে ক্যাপাসিটিটা বিল্ড করবে, এভাবে একদিন হয়ত তারাও বড় কাজে চলে আসতে পারে।

তিনি বলেন, এখানে কতগুলো বাধাও আমাদের রয়ে গেছে, সেটা হচ্ছে ৫ আগস্টের পরে দেখা যাচ্ছে যে অনেক জায়গায় ঠিকাদার নেই। অনেক জায়গায় ঠিকাদার পালিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে ঠিকাদারের নামে এত বেশি ঋণ হয়ে যাচ্ছে যে তাদেরকে আমরা টাকা দিলে ওটা আবার ব্যাংক নিয়ে যাচ্ছে। কারণ যেহেতু তাদের অনেক বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে বসে আছে। এখন যে কাজগুলো চলমান ওই কাজগুলো আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যেভাবে পারি তাদেরকে দিয়ে কাজগুলোকে করানোর জন্যে। আমাদের অফিসাররা চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, তারপরও দুই তিনটি রয়ে গেছে, অনেকগুলো কাজ শুরু হয়ে গেছে। যেটার পুরোপুরি ভূমি অধিগ্রহণ হয়নি সেখানে আবার কাজ দেরি হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরে এই কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি খুব একটা সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল সেটা আমরা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি আগামী সরকার আমাদের পথ অনুসরণ করলে এই সেক্টরের শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।