শিরোনাম

মেহেরপুর, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত গাংনী গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সম্প্রতি বাসসের সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রথমেই মাদকমুক্ত গাংনী গড়তে চাই। যুবসমাজ আজ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। সেখান থেকেই তারা সন্ত্রাসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হবে। আমি বিশ্বাস করি, ভালোবাসা ও সুযোগের অভাব থেকেই মানুষ ভুল পথে যায়। তাই সন্ত্রাসমুক্ত গাংনী গড়াই হবে মূল লক্ষ্য।’
আমজাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। তিনি মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য।
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের মেহেরপুর সংবাদদাতা দিলরুবা খাতুন।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
আমজাদ হোসেন: আমাদের সব প্রতিশ্রুতি বিএনপির ৩১ দফার মধ্যেই আছে। বর্তমানে আমরা আট দফা সামনে রেখে মানুষের কাছে যাচ্ছি। গাংনী পুরোপুরি গ্রাম কেন্দ্রিক ও কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানকার মানুষ দরিদ্র এবং কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন, কৃষি সম্প্রসারণ জোরদার, সার সংকট নিরসন, কৃষকের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা- এসবই আমাদের অগ্রাধিকার।
আমার নির্বাচনি এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করে কৃষি ও কৃষকের ওপর। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে উৎপাদিত ফসল দ্রুত শহরকেন্দ্রিক বাজারে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে। কোনো ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন যেন কৃষকের ওপর না হয়, সে দিকেও নজর থাকবে।
বাসস: নির্বাচনি আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
আমজাদ হোসেন: সরকার যে আচরণবিধি জারি করেছে, তা যেন আমাদের কোনো নেতাকর্মী লঙ্ঘন না করে- সে বিষয়ে আমরা সতর্ক। স্বল্প সময়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করছি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
আমজাদ হোসেন: গণভোটের বিষয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উৎসুক। সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট যাই হোক মানুষ ভোটের রাজনীতিতে ফিরে আসুক। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক- এই প্রত্যাশা থেকেই মানুষ ভোট দিতে যাবে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
আমজাদ হোসেন: বিএনপি একটি বিশাল দল। এখানে অসংখ্য নেতাকর্মী রয়েছে। কেউ আমাকে পছন্দ করে, কেউ অন্য কাউকে। দল যাকে মনোনয়ন দেয় তার পক্ষেই সবাই কাজ করে এটাই বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি। গাংনীতে সেটাই হচ্ছে। আমরা প্রায় ৯০ শতাংশ ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করছি।
এই আসনে এবারে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের অন্যরা হলেন, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল বাকি।
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৭০২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬১৫।