শিরোনাম

মেহেরপুর, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী মাসুদ অরুণ কৃষিবান্ধব উন্নয়ন ও সমন্বিত সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘মেহেরপুর কৃষিনির্ভর জেলা হলেও এখনো কৃষকের ন্যায্য মূল্য ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। সে ঘাটতি পূরণে ভৈরব নদকে ঘিরে একটি সমন্বিত সেচ প্রকল্প গ্রহণ করার পরিকল্পনা আছে। পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদত ধান, গম, ভুট্টা ও সবজি দেশের বিভিন্ন বাজারে দ্রুত পৌঁছাতে রেলপথ ব্যবস্থারও উন্নয়ন করব। রেলপথ থাকলে পরিবহন খরচ কমবে, কৃষকও ন্যায্য দাম পাবে।’
মাসুদ অরুণ ৪র্থ বারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী। এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও অংশ নেন। মাসুদ অরুণের পিতা প্রয়াত আহমদ আলী চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এলাকার প্রাজ্ঞ রাজনীতিকদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৯৯ সালে আহমদ আলীর মৃত্যুর পর তার বড় পুত্র মাসুদ অরুণ মেহেরপুরে বিএনপির হাল ধরেন।
তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের মেহেরপুর জেলা সংবাদদাতা দিলরুবা খাতুন।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কী?
মাসুদ অরুণ: জেলার কৃষিবান্ধব উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারীরা এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। তাই ফ্যামিলি কার্ড হবে পরিবারের মায়ের হাতে। এই ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি সাহায্য নয়। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ মায়ের নামে থাকলে যে সহযোগিতা আসবে তাতে ঐ পরিবারে মায়ের সম্মান বৃদ্ধি পাবে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সার, বীজ ও স্বল্পসুদে কৃষিঋণ সহজলভ্য করা হবে। এ ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত কৃষক উপকৃত হবে।
বাসস: নির্বাচনি আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মাসুদ অরুণ: আমার সব নেতা-কর্মীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, ভয়ভীতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। শতভাগ আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালাতে হবে। আমরা নিজেরা যেমন শৃঙ্খলা মেনে চলব, অন্যদেরও তা করতে উৎসাহিত করব।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মাসুদ অরুণ: জুলাই সনদ বিষয়ে আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। এটি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাই হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে আমরা মাঠে প্রচার চালাচ্ছি।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মাসুদ অরুণ: অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবে। সব দল শৃঙ্খলার মধ্যে থাকলে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব। আশা করছি নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
জেলার দুটি সংসদীয় আসনের মধ্যে মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর) আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের অন্যান্যরা হলেন, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মওলানা মো. তাজউদ্দীন খান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল হামিদ এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।
মেহেরপুর-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯০ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮২।