শিরোনাম

নেত্রকোণা, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নেত্রকোণা ২ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান বেকারত্ব দূরীকরণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ফাহিম জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্য পড়াশোনা এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ছাত্র থাকা অবস্থায় বিভিন্ন আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক চাই এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে দেশের মানুষের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের জেলা সংবাদদাতা মো. তানভীর হায়াত খান।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
ফাহিম রহমান খান পাঠান: আমি নির্বাচিত হলে শিক্ষাখাতে ব্যাপক উন্নয়ন, ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্য পড়াশোনা ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি পেতে সহযোগিতা করবো। সরকারি হাসপাতাল এবং প্রত্যেকটি ইউনিয়নের কমিউনিটি হাসপাতালগুলোকে সচল এবং ডাক্তাররা যেন সঠিক সেবা দেয়, সেই বিষয়ে আমি পদক্ষেপ নিবো।
আমাদের এলাকার লোকজন ভালুকা, ত্রিশাল, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ গিয়ে চাকরিবাকরি করে ফলে তাদের পরিবারের সাথে একটা দূরত্ব হয়। তাই বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র তৈরি করার চেষ্টা করবো এবং যাতে বাহিরের মানুষ এসেও চাকরি করতে পারে এ এলাকায়। আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট, মসজিদ-মন্দির সংস্কার করার ব্যাপারে আমি ব্যাপকভাবে কার্যক্রম শুরু করবো।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
াহিম রহমান: আসন্ন নির্বাচনে নেতাকর্মীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী আচরণবিধির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তা শতভাগ মেনে চলার চেষ্টা করবো।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
ফাহিম রহমান: গণভোটের বিষয়ে আমি সবাইকে বলবো গণভোটে আপনারা সকলে হ্যাঁ দিন। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হ্যাঁ ভোটের বিকল্প নাই।
বাসস: আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
ফাহিম রহমান: নেত্রকোণা সদর ও বারহাট্টায় দখল, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ দেখতে চায় তাহলে জনগণ আমাকে ভোট দেবে। আমি জনগণের পাশে আছি। নেত্রকোণা সদর- বারহাট্টা আসনের জনগণের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, তারা সবাই যেন নিজ দায়িত্বে ভোট দেয়।
নেত্রকোণা জেলা পাঁচটি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। পাঁচটি আসনের মধ্যে ১৫৮ নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনটি জেলার সদর আসন। সদর আসন হওয়ায় এ আসনে সবসময়ই আলাদা দৃষ্টি থাকে সকল রাজনৈতিক দল এবং ভোটারদের মধ্যে। জোটগত ঐক্যের কারণে এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান (শাপলা কলি) কে সমর্থন জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোণা ২ আসন ১ টি পৌরসভা ও ১৯ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে ১৭২ টি ভোট কেন্দ্র এবং ৯ শত ৪০ টি ভোট কক্ষ আছে।
এ আসনে মোট ৫ লাখ ২ হাজার ৪ শত ৩৮ জন ভোটার রয়েছেন। তার মধ্যে ২ লাখ ৫২ হাজার ৩ শত ৭৯ জন পুরুষ, ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭ জন মহিলা এবং ১২ জন তৃতীয় ভোটার। এবারের নির্বাচনে এ আসনে মোট পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৫ হাজার ১ শত ৪ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪ শত ৯ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৬ শত ৯৫ জন মহিলা ভোটার।
নেত্রকোণা-২ আসনে মোট পাঁচটি দলের পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক (ধানের শীষ), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠান (শাপলা কলি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুর রহিম (বটগাছ) এবং জাতীয় পার্টির এবিএম রফিকুল হক তালুকদার (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।