বাসস
  ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:২২

উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নেত্রকোণা ২ এর খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুর রহীম 

নেত্রকোণা ২ এর খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুর রহীম। ছবি: বাসস

নেত্রকোণা, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নেত্রকোণা ২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুর রহিম কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি তার দলীয় ‘বটগাছ’ প্রতীক নিয়ে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। তার আসনে টেকসই রাস্তা নির্মাণ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে ইনসাফের সাথে আগামী দিনে তিনি জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করতে চান। 

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব আব্দুর রহীম। রাজপথের পরিচিত ব্যক্তিত্ব আব্দুর রহীম স্বৈরাচার সরকারের শাসনামলে সন্ত্রাসীদের হামলায় অঙ্গ হারান। এই প্রার্থী গত সতেরো বছরে সকল ন্যায়, যৌক্তিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব প্রদান করে জনগণের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন।

তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের জেলা সংবাদদাতা মো. তানভীর হায়াত খান।

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

গাজী আব্দুর রহীম: আমাদের এ জেলা প্রাকৃতিক সব ধরনের সৌন্দর্যে ভরপুর, এটি সম্ভাবনাময় একটি জেলা, বিশেষ করে নদ-নদী পাহাড়-পর্বত সবকিছু এ জেলায় রয়েছে, অন্য জেলা থেকে এ জেলা ব্যাতিক্রম কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিগত সময়ে যারা বারবার ক্ষমতায় এসেছে, চেয়ারের পালাবদল হয়েছে কিন্তু আমার এ জেলার কোন উন্নয়ন হয়নি। তাই আমি ভোটারদেরকে প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, আগামীদিনে যদি মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেন তাহলে জনগণ যে সমস্ত জায়গাগুলো থেকে অধিকার বঞ্চিত হয়েছে সেগুলো নিয়ে আমি কাজ করবো। 

আমার নির্বাচনী আসনের বেশিরভাগ ইউনিয়নগুলোর রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, স্বাস্থ্যসেবার ভঙ্গুর অবস্থা এবং নারীদের কর্মসংস্থানের অভাব, মাদক, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো। 

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

আব্দুর রহীম: নির্বাচন কমিশন থেকে যে বিধিমালা রয়েছে তা পালনে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা নিয়মবহির্ভূত কোন কাজ করবো ন। আমি ও আমার দল এবং নেতাকর্মীরা আইনের প্রতি সবসময়ই শ্রদ্ধাশীল।

বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?

আব্দুর রহীম: আমরা কিন্তু এ নির্বাচনে দুইটা ভোট একসাথে দিবো, একটা দলীয় প্রতীকে ভোট, আরেকটা হচ্ছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট। জুলাই সনদ যদি আপনি বাস্তবায়ন করতে চান তাহলে অবশ্যই হ্যাঁ ভোট দিতে হবে। আমি আমার ভোটারদের বলতে চাই আপনারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং হ্যাঁ ভোট দিবেন। 

বাসস: আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

আব্দুর রহীম: দীর্ঘ সতেরো বছর পর আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি পরিবেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ। আমরা আশা করবো নির্বাচনের দিনে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যেন সমান থাকে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বায়িত্বে যারা আছেন তারা যেন কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন।

নেত্রকোণা জেলা পাঁচটি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। পাঁচটি আসনের মধ্যে ১৫৮ নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনটি জেলার সদর আসন। সদর আসন হওয়ায় এ আসনে সবসময়ই আলাদা দৃষ্টি থাকে সকল রাজনৈতিক দল এবং ভোটারদের মাঝে। 

নেত্রকোণা-২ (সদর -বারহাট্টা) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট পাঁচটি দলের পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক (ধানের শীষ), জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠান (শাপলা কলি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুর রহিম (বটগাছ) এবং জাতীয় পার্টির এবিএম রফিকুল হক তালুকদার (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী অংশ নিয়েছেন। 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১ টি পৌরসভা ও ১৯ টি ইউনিয়ন নিয়ে নেত্রকোণা ২ আসন গঠিত। এ আসনে ১৭২ টি ভোট কেন্দ্র এবং ৯ শত ৪০ টি ভোট কক্ষ নিয়ে গঠিত।
এ আসনে মোট ৫ লাখ ২ হাজার ৪ শত ৩৮ জন ভোটার রয়েছেন। তার মধ্যে ২ লাখ ৫২ হাজার ৩ শত ৭৯ জন পুরুষ, ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭ জন মহিলা এবং ১২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। এ আসনে মোট পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৫ হাজার ১ শত ৪ জন, এর মাঝে ৩ হাজার ৪ শত ৯ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৬ শত ৯৫ জন মহিলা ভোটার।