বাসস
  ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৫
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪০

তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন সুনামগঞ্জ ৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম 

সুনামগঞ্জ ৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল । ফাইল ছবি

সুনামগঞ্জ, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ ৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল শিক্ষার উন্নয়নসহ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন। 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে এবার বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম। তিনি ছাত্রদল থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।

তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের জেলা সংবাদদাতা মুহাম্মদ আমিনুল হক। 

বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী ?

নুরুল ইসলাম: এ আসনে যখনই বিএনপি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তখনই এলাকার উন্নয়ন হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে আরো ৫টি উপজেলার যে সংযোগ সেতুসহ সুনামগঞ্জ আব্দুজ জহুর সেতু (সুরমা ব্রীজ) নির্মিত হয়েছে, তা তার সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের আমলেই হয়েছে। এছাড়া গ্রামে ও শহরের উন্নয়ন বিএনপি সরকারের আমলেই হয়েছে।

এবারও যদি আমি সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচিত হই, তাহলে খেটে খাওয়া মানুষের পাশেই দাঁড়াবো। রাস্তাঘাটসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন করবো। বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ৩১ দফা দাবি বাস্তবায়নে কাজ করবো।

বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?

নুরুল ইসলাম: নির্বাচনী আচরণবিধি পালন করা আমাদের সকল প্রার্থীদের অত্যাবশ্যক। আমি নিজেও যথাযথ চেষ্টা করি নির্বাচনী আচরণবিধি মানার। এ পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্গন হয়নি। আগামীতেও ইনশাল্লাহ হবে না। আমি আমার নেতা-কর্মীদেরও বলে দিয়েছি নির্বাচনী আচরণবিধি ফলো করার জন্য।

বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী ?

নুরুল ইসলাম: জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি জুলাই সনদের পক্ষে। নির্বাচনী প্রচারণায় ও গণ সংযোগে আমরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কাজ করছি। দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্টের কারাগারে ছিল বাংলাদেশ। এই দেশকে মুক্ত করতে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে। অবশেষে জুলাই গণঅভুত্থানে ছাত্র জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট বিদায় হয়েছে। তৎপরবর্তী সময়ে অন্তবর্তী সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জুলাই সনদ লেখা হয়েছে। সকল রাজনৈতিক দল এ সনদে স্বাক্ষর করেছেন। এখন গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে।

বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী ?

নুরুল ইসলাম: এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক বিগত সকল নির্বাচনের মাইলফলক। যা দেখে তরুন প্রজন্ম আর বলবে না দিনের ভোট রাতে হয়েছে। মানুষের মধ্যে ইনসাফ কায়েম হোক এটাই আমার প্রত্যাশা।

আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিয়ে ভোটারদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নাগরিক অধিকার ফিরে পাবেন বলে ভোটাররা বিশ্বাস রাখছেন এ নির্বাচনে। এলাকায় নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। প্রতিটি গ্রাম, পাড়া ও মহল্লা থেকে শুরু হয়ে হাট বাজার এবং চায়ের দোকানে নির্বাচনী আলাপচারিতা। কে হচ্ছেন সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ-সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের কান্ডারী। সুনামগঞ্জ-৪ আসনটি দুটি উপজেলায় বিভক্ত হওয়ায় আঞ্চলিকতার প্রভাব পড়বে বলে জানান সচেতন মহল। 

ভোটাররা জানান, আমরা নিরবে ভোট দিব ভালো মানুষ ও সৎ যোগ্য প্রার্থীকে। দূর্নীতি ও চাঁদাবাজি দূর করতে স্বচ্ছ ভোটের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা। এ আসনটি জেলা সদরের আসন হওয়ায় প্রার্থীদেরকে নিয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু এখন সুনামগঞ্জ-৪ আসন। এ বারের নির্বাচন হবে স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রতীকে ত্রিমুখী লড়াই। অপরদিকে ভোটের দিন দুটি ভোট দেওয়ায় ভোটারদের মাঝে কৌতুহলের শেষ নেই। গণভোট নিয়েও তাদের উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। 

সুনামগঞ্জ-সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ ৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪১ হাজার ৮৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৬৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৩ জন ও তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ২ জন। 
এবারের নির্বাচনে অন্যান্য দলের পক্ষে অংশগ্রহণ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মরমি কবি হাসন রাজার প্রপৌত্র ও জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের জেলা কমিটির নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শামস উদ্দীন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী সংগঠনের জেলা সভাপতি মাওলানা শহীদুল ইসলাম পলাশী।