শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জ, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট। এই জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন।
আসনের জলাবদ্ধতা, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, পরিবেশ, স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার নিয়েছেন এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নারায়ণগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা নুসরাত সুপ্তি।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
আব্দুল্লাহ আল আমিন : আমি যে আসনে নির্বাচন করছি, সেখানে একসময় ত্রাসের রাজত্ব ছিল। এই এলাকা জলাবদ্ধতা, মাদক, সন্ত্রাস, চিকিৎসাখাতের অব্যবস্থাপনাসহ নানা সমস্যায় আবৃত। এই সব সমস্যা থেকে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তি চায়। এসব সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করতে চাই। এসব সমস্যা মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে আমরা পরিকল্পনা তৈরি করছি। ত্রাসের রাজত্ব থেকে জনগণকে মুক্তি দেয়াই আমার লক্ষ্য।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
আব্দুল্লাহ আল আমিন : আমদের নেতাকর্মীরা আচরণবিধি মেনে চলছে। কোনো ধরনের হ্যান্ডবিল, লিফলেট, শোডাউন, মাইকিং বা মিছিল করা যাবে না এটা আমার নেতাকর্মীদের বলে দিয়েছি। যেটা করতে পারে সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। তারা গণভোটের পক্ষে প্রচারণা করছে।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
আব্দুল্লাহ আল আমিন : জুলাই সনদের বিষয়ে আমি ও আমার দল ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে আছি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে একটা সংস্কার হবে। কারণ অনেক মানুষের আত্মত্যাগ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই বাস্তবায়ন না হলে এই আত্মত্যাগের মূল্য থাকছে না। পুরোনো রাজনীতি চলমান থাকলে, রাজনীতির গুণগত মানের উন্নয়ন না হলে, মানুষের ত্যাগ ও সংগ্রামের মূল্য থাকে না। আমরা মনে করি জনগণও হ্যাঁ এর পক্ষে আছে।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
আব্দুল্লাহ আল আমিন : আসন্ন্ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয়, এবং কোনো কারণেই যেন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় এটা প্রশাসনের কাছে আশা থাকবে। রাজনীতিবিদদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, বিপ্লবপরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক হিংসা-বিবেধ, হানাহানি বাদ দিয়ে রাজনৈতিক গুণগত পরিবর্তন কিংবা কাজ দিয়ে মানুষের মন জয় করা উচিত। তাই কাঁদা ছোড়াছুড়ি না করে একটা পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ মানুষকে দেওয়ার জন্য সবাই মিলে কাজ করা উচিত। আমরা শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম। আমরা যদি সুযোগ পাই, নারায়ণগঞ্জকে একটা পজেটিভ নারায়ণগঞ্জ হিসেবে গড়ে তুলবো। যেখানে নাগরিক সুবিধা, নাগরিকের মর্যাদা, তাদের অধিকার ভুলণ্ঠিত হবে না। নাগরিকের অধিকার অগ্রাধিকার পাবে। এনসিপি তারুণ্য নির্ভরদল। তরুণরা পরিবর্তন চায়, তাই তাদের কাছে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জ চার আসনে তরুণরা চায় রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। তাই তারা আমাদের উপর আস্থা রাখছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসনের নতুন সীমানা নির্ধারন করা হয়েছে। সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন- ফতুল্লা, কুতুবপুর, বক্তাবলী, কাশীপুর, এনায়েতনগর, গোগনগর ও আলীরটেক নিয়ে আসনটি গঠিত হয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭০ হাজার ১৭ জন ও নারী ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জন। এছাড়া ৬ জন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন। এ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৭৭টি।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছাড়াও এই আসনে ১৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র মো. শাহ্ আলম ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সেলিম মাহমুদ।
এছাড়া রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের ইলিয়াস আহমেদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. সুলাইমান দেওয়ান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছালাউদ্দিন খোকা মোল্লা, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আরিফ ভূঁইয়া, সিপিবি প্রার্থী ইকবাল হোসেন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী সেলিম আহমেদ।