শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জ, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মনির হোসেন কাসেমী।
সম্প্রতি মনির হোসেন কাসেমী নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ, সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং তার আগামীর পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠ ভোট হলে এই আসনে তার জয় সুনিশ্চিত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নারায়ণগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা নুসরাত সুপ্তি।
বাসস : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
মনির হোসাইন কাসেমী : এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করতে চাই। আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ীই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
বাসস : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মনির হোসাইন কাসেমী : আমার নেতাকর্মী প্রত্যেককেই সতর্ক করে দিয়েছি, কোনভাবেই নির্বাচনী আচরণবিধি যেন লঙ্ঘন করা না হয়। এ বিষয়ে আমি নিজেও সতর্ক, অন্যদেরকেও সতর্ক করে দিয়েছি।
বাসস : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মনির হোসাইন কাসেমী : এগুলো আইন প্রণেতা, আইন বিশেষজ্ঞদের কাজ। এটা বিচারপতিদের বোঝার কথা, বিশেষজ্ঞদের বোঝার কথা। জনগণ যারা খেটে খাওয়া মানুষ, তারা তো হ্যাঁ কিংবা না তে ভোট দেবে। সে তো এটা সম্পর্কে কিছু জানে না। এ জন্য এখনো এ বিষয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি।
বাসস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মনির হোসাইন কাসেমী : দীর্ঘদিন ধরে জনগণ একটি সুন্দর নির্বাচন থেকে বঞ্চিত। জনগণ যেন এবার স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দের মানুষকে নির্বাচিত করতে পারে, এমন একটি পরিবেশ বজাই থাকবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।
মনির হোসেন কাসেমী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও জেলার সভাপতি। ‘খেজুর গাছ’ প্রতীক নিয়ে লড়াই করা এই প্রার্থী কেবল ধর্মীয় নেতা নন, বরং মাঠের রাজনীতিতে এক পরিচিত মুখ।
২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনোনয়নে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন মনির হোসাইন কাসেমী। সে নির্বাচনে তিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করেন এবং বিতর্কিত নির্বাচনে পরাজিত হন। তখন তিনি নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রথমবার আলোচনায় আসেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী ছাড়াও এই আসনে ১৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে।
এ তালিকায় আছে জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমীন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র মো. শাহ্ আলম ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের ইলিয়াস আহমেদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. সুলাইমান দেওয়ান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছালাউদ্দিন খোকা মোল্লা, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আরিফ ভূঁইয়া ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী সেলিম আহমেদ ও সিপিবি প্রার্থী ইকবাল হোসেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসনের এবার নতুন সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন- ফতুল্লা, কুতুবপুর, বক্তাবলী, কাশীপুর, এনায়েতনগর, গোগনগর ও আলীরটেক নিয়ে আসনটি গঠিত হয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭০ হাজার ১৭ জন ও নারী ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জন। এছাড়া ৬ জন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন। এ আসনে মোট কেন্দ্র রয়েছে ১৭৭টি।