বাসস
  ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৪
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩৮

ঢাকা-৮ আসনকে নিরাপদ, সেবামুখী ও বাসযোগ্য করতে চাই : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ফাইল ছবি

ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচিত হলে তার নির্বাচনী এলাকাকে একটি নিরাপদ, সেবামুখী ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা-৮ একটি ব্যতিক্রমধর্মী আসন, যেখানে দেশের প্রধান খাত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থান করছে। ফলে এই আসনের সমস্যা যেমন জটিল, তেমনি সম্ভাবনাও বিপুল। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি নিরাপদ, সেবামুখী ও বাসযোগ্য ঢাকা-৮ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা-৮ আসনের মধ্যে রয়েছে।  প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী ও স্বজন এই এলাকায় আসেন। এই বিশাল রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে মানুষকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। আমি নির্বাচিত হলে হাসপাতালকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনাকে মানবিক, শৃঙ্খলিত ও রোগীবান্ধব করতে কার্যকর উদ্যোগ নেব।’

ঢাকা-৮ আসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত  বলে তিনি  উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে  তিনি বলেন, ‘এই আসন মূলত দেশের জ্ঞান ও মানবসম্পদ তৈরির কেন্দ্র। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; পড়াশোনার সময় থেকেই শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হবে, যাতে শিক্ষা শেষে তারা বেকার না হয়ে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হয়।’

অর্থনৈতিক দিক থেকে মতিঝিলকে দেশের আর্থিক কেন্দ্র উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ আসনেই বাংলাদেশের ব্যাংকিং, আর্থিক ও করপোরেট কার্যক্রমের বড় অংশ কেন্দ্রীভূত। তিনি বলেন, ‘আমরা মতিঝিলকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের ফাইন্যান্সিয়াল হাবে রূপান্তর করতে চাই। ব্যাংকিং সেক্টর, শেয়ারবাজার ও আর্থিক সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে যাতে দেশের অর্থ লুটপাটের শিকার না হয়, সে ব্যবস্থাই আমাদের লক্ষ্য।’

ঢাকা-৮ আসনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা এবং গোডাউনভিত্তিক ব্যবসার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব ব্যবসা এলাকার অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার শিকার। এ খাতকে পরিকল্পিত ও নিরাপদ করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

সরকারি সেবা প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘ঢাকা-৮ আসনেই দেশের সর্বাধিক সরকারি অফিস ও কর্মচারীর কর্মস্থল। তাই আমরা চাই, সরকারি দপ্তরগুলোতে জনগণ যেন হয়রানি ছাড়া সেবা পায়। ডিজিটালাইজেশন ও নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেবাখাতকে নাগরিকবান্ধব করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-৮ আসনের আবাসিক এলাকাগুলোতে গ্যাস ও পানির লাইন থাকা সত্ত্বেও অনেক জায়গায় নিয়মিত সরবরাহ নেই। পাশাপাশি ধুলোবালি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের অভাব এবং যানজট ঢাকা-৮-এর বড় সমস্যা। এসব বিষয় স্থানীয় সরকারের আওতাভুক্ত হলেও নির্বাচিত হলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে এসব ইস্যু জোরালোভাবে উত্থাপন করবেন বলে জানান।

নিরাপত্তাকে তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য নিরাপদ ঢাকা-৮ গড়া। এমন একটি এলাকা চাই, যেখানে নারীরা গভীর রাতেও নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারবেন।’ তিনি মাদকমুক্ত সমাজ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা এবং শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

গণভোট প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গণভোট কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের মত প্রকাশের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোট গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ঢাকা-৮ আসনে এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কাঁচাবাজার, মসজিদ, স্কুল-কলেজ, শপিংমলসহ বিভিন্ন স্থানে লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণের মাধ্যমে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘দেশে দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও দমন-পীড়নের একটি পরিবেশ ছিল। বহু প্রতিষ্ঠান দখলের কারণে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছে না।’ তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ঢাকা-৮ আসনের মানুষ আশ্বাস দিচ্ছেন, তারা ভোটের মাধ্যমে জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং ইনসাফ ও সংস্কারের পক্ষে রায় দেবেন।’

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার দল ও সমর্থকেরা কঠোরভাবে আচরণবিধি মেনে চলছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো উসকানিতে জড়াইনি এবং শান্তিপূর্ণ প্রচারণায় বিশ্বাস করি।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, গণভোট ও নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে স্থাপিত তাদের কিছু বিলবোর্ড ও প্রচারসামগ্রী প্রতিপক্ষের কর্মীরা অপসারণ করেছে। তবুও শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

১১ দলীয় জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোটভুক্ত দলগুলো জনগণের কথা বলছে বলেই মানুষ তাদের দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষের কথাই তুলে ধরছি। জনগণই আমাদের বিজয়ের দিকে নিয়ে যাবে- ইনশাআল্লাহ।’ 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ড (মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, শাহজাহানপুর ও রমনা) নিয়ে গঠিত ঢাকা -৮ আসন।

ঢাকা-৮ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক  জন। আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১০৮টি এবং মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৫২৭টি। 

মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাড়াও আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত মির্জা আব্বাস, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের(মার্কসবাদী) এ এইচ এম রাফিকুজ্জামান আকন্দ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদের এ, এফ, এম ইসমাইল চৌধুরী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম সরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেফায়েত উল্লা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ত্রিদ্বীপ কুমার সাহা, গণঅধিকার পরিষদের(জিওপি) মেঘনা আলম, জনতার দলের মো. গোলাম সারোয়ার, জাতীয় পার্টির মো. জুবের আলম খান ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের( মুক্তিজোট) মো. রাসেল কবির।