শিরোনাম

পিরোজপুর, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদ সাঈদী মাদক, সন্ত্রাস এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করে বেকার সমস্যার সমাধান করবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী। তিনি এ আসনের দুই বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশ্ব নন্দিত মুফাসসিরে কোরআন মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ২০১৪ সালে ইন্দুরকানী (জিয়ানগর) উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। তিনি পিরোজপুরে তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত সাঈদী ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান।
মাসুদ সাঈদী নির্বাচন নিয়ে তার প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাসসের পিরোজপুর জেলা সংবাদদাতা মো.মিজানুর রহমান।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
মাসুদ সাঈদী: দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এবং উন্নয়ন বঞ্চিত পিরোজপুর ১ আসন নিয়ে আমার বিশেষ কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো, পিরোজপুরে কোন শিল্প কলকারখানা নেই, তাই পিরোজপুরকে একটি অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ঘোষণা করতে চাই। যার মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে চাই। বেকার সমস্যা দূর করা গেলে একজন ব্যক্তি স্বাবলম্বী হবে, একজন ব্যক্তি স্বাবলম্বী হলে একটি পরিবার স্বাবলম্বী হবে, একটি পরিবার স্বাবলম্বী হলে সমাজ স্বাবলম্বী হবে এবং একটি সমাজ স্বাবলম্বী হলে রাষ্ট্র স্বাবলম্বী হবে।
পিরোজপুর "ক"শ্রেণীভুক্ত পৌরসভা হলেও এখানকার রাস্তাঘাট দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। বিগত সরকারের আমলে পিরোজপুরের উল্লেখযোগ্য তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। তাই রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করব। পিরোজপুরের স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত নাজুক আবস্থায় রয়েছে। তাই স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন করব, যাতে চিকিৎসার জন্য এ অঞ্চলের মানুষদেরকে বরিশাল, খুলনা বা ঢাকাতে ছুটে যেতে না হয়। এছাড়া নদীবেষ্টিত এ এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করবো। সর্বোপরি আমি নির্বাচিত হতে পারলে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ ও একটি বাসযোগ্য পিরোজপুর উপহার দিব ইনশাআল্লাহ।
বাসস: নির্বাচনী আচরণ বিধি পালনে নেতা-কর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
মাসুদ সাঈদী: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃংখল রাজনৈতিক দল। আমরা সবসময়ই সরকারের বিধি নিষেধ মেনে চলি। নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আমরা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে চলছি। নেতাকর্মীদেরও আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাসস: জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মাসুদ সাঈদী : দেখুন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি, অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমি নিজে জুলাই সনদকে ধারণ করি এবং জুলাই সনদই নির্ধারণ করে দিবে আগামী রাষ্ট্র কাঠামো। জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে আগামীতে নতুন করে আর কোন ফ্যাসিবাদের সৃষ্টি হবে না। তাই আমি এবং আমার দল জুলাই সনদ এর পক্ষে।
বাসস:আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মাসুদ সাঈদী: প্রথমত আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। আর আমি এবং আমার দল জামায়াতে ইসলামী জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাসী। তাই জনগণ আমাদের পক্ষে আছে।
এছাড়া আমার মরহুম পিতা শহীদ আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী জনগণের ভালোবাসায় এই আসনে দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে এখানে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাছাড়া জিয়ানগর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আমি নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে জনগণের পাশে থেকেছি। তাই আশা করছি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন।
পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপি এবং জামায়াত থেকে শুধুমাত্র দু’জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দেশের দক্ষিণের নদী-খাল বেষ্টিত জেলা পিরোজপুর। এ জেলায় রয়েছে তিনটি সংসদীয় আসন। এরমধ্যে পিরোজপুর- ১ (১২৭) সংসদীয় সদর আসনটি জেলার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্যাদার আসন হিসেবে পরিচিত।
পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে পিরোজপুর-১ সংসদীয় আসন গঠিত। এ আসনে রয়েছে একটি পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়ন। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৯২ হাজার ১৭৭ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৬৬ টি।
এরমধ্যে পুরুষ ভোটার, এক লাখ ৯৮ হাজার ৭০৮ জন এবং মহিলা ভোটার এক লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৯ জন। এ আসরন তৃতীয় লিঙ্গের কোন ভোটার নেই।